বছর ঘুরে আবারও এসেছে পাহাড়ের প্রাণের উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, তঞ্চঙ্গা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব। পার্বত্য তিন জেলার পাহাড়ি পল্লীগুলোতে এখন চলছে উৎসবের আমেজ। এ উৎসবকে ঘিরে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেছে পাহাড়ের মানুষ। নানান রঙে সাজতে শুরু করেছে পুরো পার্বত্য এলাকা। মাস জুড়ে চলবে এ উৎসব।দড
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫ দিন বৈসাবি’র সংস্কৃতি মেলা। সোমবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রি. জে. মোহাম্মদ ইমতাজ উদ্দিন এনডিসি পিএসসি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ, জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়না পাংখোয়া, রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) রুনেল চাকমাসহ আরো অনেকে।
বর্ণিল আয়োজনে ৩ এপ্রিল শুরু হওয়া ৫ দিনের বৈসাবি’র সংস্কৃতি মেলা শেষ হবে ৭ এপ্রিল। এ মেলা চলবে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কাপড়-চোপড়ের পাশাপাশি স্টলগুলোতে প্রদর্শিত হচ্ছে খাদ্যদ্রব্যসহ হরেকরকম ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা, তঞ্চঙ্গা নাটক মঞ্চায়ন, পিঠা উৎসব, পাজন রান্না প্রতিযোগিতা, বিশিষ্টজনদের স্মৃতিচারণ ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধায় থাকছে রাঙ্গামাটির বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত ও নৃত্য অনুষ্ঠান।
এর আগে বৈসাবি উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে প্রদর্শন করা হয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ ডিসপ্লে। বৈসাবি উৎসবের মাধ্যমে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হবে এমন প্রত্যাশা সকলের।
