চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে।
আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে ইনস্টিটিউটের মূল ফটকে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আন্দোলনে থাকা চারুকলা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী জহির রায়হান বলেন, মূল ক্যাম্পাসে না নেওয়া পর্যন্ত তাঁরা আর ক্লাসে ফিরবেন না। সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ২৩ জানুয়ারি ক্লাসে ফিরেছিলেন। কিন্তু ৯ দিনেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে আবার আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা চারুকলায় অবরোধ চালিয়ে যাবেন।
এর আগে ২২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মুহাম্মদ ফখরুজ্জামান এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা সাত দিনের জন্য আন্দোলন শিথিল করে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বসেই ক্লাসে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এরপর ২৩ জানুয়ারি থেকে শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া, ছাত্রীদের অস্থায়ী হল স্থাপন করা , পরিবহনব্যবস্থা চালু করা, শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যানটিন চালু করা, ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ভবনকে ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করে লিখিত ছাড়পত্র দেওয়া ইত্যাদির দাবি জানিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুফিয়া বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে গতকাল তিনি বলেছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, সরকারের বাজেটের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া বাকি সব দাবি এখন প্রক্রিয়াধীন। তিনি নিজে উপাচার্যকে সব দাবির বিষয় জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে শিক্ষার্থীরা আবার কেন অবরোধে গিয়েছেন, বিষয়টি তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।
চবিতে চারুকলা বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭০ সালে। ২০১০ সালে নগরের সরকারি চারুকলা কলেজের সঙ্গে এক হয়ে গঠিত হয় চারুকলা ইনস্টিটিউট।
ইনস্টিটিউটের অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে নগরের মেহেদীবাগের বাদশা মিয়া সড়কে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫৩। তাঁদের মধ্যে ছাত্রী ১৭৯ জন ও ছাত্র ১৭৪ জন।
শ্রেণিকক্ষে পলেস্তারা খসে পড়ার জেরে ২২ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ২ নভেম্বর ক্লাস বর্জনসহ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। একপর্যায়ে ইনস্টিটিউট নগর থেকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে এক দফা দাবি দেন তাঁরা। প্রশাসন দাবি না মানায় ১৬ নভেম্বর ইনস্টিটিউটের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
ওই দিন থেকে অচল ছিল ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম। পরে ২৩ জানুয়ারি থেকে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে শর্ত সাপেক্ষে ক্লাসে ফিরেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এরপর গতকাল মঙ্গলবার থেকে আবার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ইনস্টিটিউটের শ্রেণিকক্ষগুলোর অবস্থা জীর্ণশীর্ণ। ছাত্রীদের জন্য মাত্র একটি শৌচাগার আছে। আবাসনসুবিধা পান মাত্র ১৩ শিক্ষার্থী। গ্রন্থাগারে বই নেই। ডাইনিংয়ে খাবারের ব্যবস্থা নেই। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তাঁরা মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চান।
