চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ’৭২ সালের এই দিনে পাকিস্তানী কারাগারের মৃত্যুকূপ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রর্ত্যাবর্তনের মাধ্যমে স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এবং দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বাঙালি জাতির আরো একটি বড় অর্জন সাধিত হয়।
বঙ্গবন্ধু এদিন ঢাকায় ১০লক্ষ মানুষের জনসমুদ্রে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে ১৭টি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর আরাধ্যের সোনার বাংলা বিনির্মাণে তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে বিশ্ব জয় করে চলেছেন।
আজ মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনোপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ’৭১ এ আমেরিকা পাকিস্তানের মুরুব্বী ছিল। সেই আমেরিকা পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কুমতলবে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দোহাই দিচ্ছে। তাদের রাষ্ট্রদূত বিএনপির কর্মসূচীতে অরাজকতা সৃষ্টি হলে পুলিশের গুলিতে একজন কর্মী নিহত হওয়ার পর কুটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে নিহতের বাসায় যান।
অথচ নিকট অতীতে বিএনপি-জামাত ও জঙ্গীরা শত শত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত একবারও শহীদদের বাসায় সমবেদনা জানাতে যাননি। আসলে আমেরিকা ’৭১ এর প্রতিশোধ নিতে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সাথে সখ্যতা গড়তে চায়।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য সোনার বাংলা বাস্তবায়নে বিগত ১৪ বছরের নজীর বিহীন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিজয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
অন্যথায় বাংলাদেশ অন্ধকারে ডুবে যাবে। এজন্য দেশ-বিদেশে, ঘরে-বাইরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতে আওয়ামী লীগ শত ষড়যন্ত্র চূর্ণ করে অপরাজেয় ছিল। আমাদের কোনো শক্ত প্রতিপক্ষ নেই। এটা অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মীর ফেসবুক একাউন্ট আছে তাদের অনেকেই বিএনপি-জামাতসহ গণ শত্রুদের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেন না। অথচ নিজেদের দলের নেতা এমনকি সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধেও মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন।
এটা জঘন্য ও আত্মঘাতি ষড়যন্ত্র। তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে- এটা অন্যায় ও অপরাধ নয়। তবে এই প্রতিযোগিতা হতে হবে গঠনমূলক ও আত্ম সমালোচনামূলক। যদি প্রতিহিংসা পরায়ন ও ব্যক্তিক চরিত্রহরণ মূলক হয় তাহলে তা হবে জঘন্যতম অপরাধ এবং এটা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি তৃণমূল স্তরসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অবশ্যই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে দলের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যাকেই নৌকা প্রতীক দেবেন তার বিজয় নিশ্চিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আগামীকাল ১১ই জানুয়ারি জননেতা মরহুম এম.এ. আজিজের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে হালিশহরস্থ মরহুমের বাড়ী সংলগ্ন কবরে দলের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারতের কর্মসূচী প্রদান করেন।
এছাড়াও এম.এ আজিজের মৃত্যুবার্ষিকীতে দলীয় কার্যালয়ের সম্মুখে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়ে নেতা-কর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।
একই সাথে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল ১১ই জানুয়ারি দারুল ফজল মার্কেটস্থ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয় সম্মুখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় দিনব্যাপী সতর্কতামূলক অবস্থান কর্মসূচী পালিত হবে এছাড়াও নগরীর চারটি স্পটে- অলংকার, ইপিজেড মোড়, অক্সিজেন ও বহদ্দারহাটে একই সতর্কতামূলক কর্মসূচী পালন করা হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, উপদেষ্টা সফর আলী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব আবদুচ সালাম, নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, থানা আওয়ামী লীগের আনছারুল হক, অধ্যক্ষ আসলাম হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আবুল হাসেম বাবুল, আবছার উদ্দীন চৌধুরী, মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, ইকবাল হাসান, সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, সহ সভাপতি এড. সুনীল কুমার সরকার, উপদেষ্টা শেখ মোহাম্মদ ইছহাক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হাছান মাহমুদ শমসের, মোঃ হোসেন, আব্দুল আহাদ, আবু তাহের, ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, শহিদুল আলম, নির্বাহী সদস্য আবুল মনছুর, সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, আব্দুল লতিফ টিপু, মোঃ জাবেদ, হাজী বেলাল আহমদ, মোর্শেদ আক্তার চৌধুরীসহ ১৫টি থানা ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক/যুগ্ম আহ্বায়কগণ উপস্থিত ছিলেন।
