পটিয়া পৌরসভার শশাংকমালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সহকারী শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনর রশীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২ জানুয়ারি) সকালে পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়,শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ উক্ত বিদ্যালয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সহকারী শিক্ষিকা উম্মে হাবিবা চৌধুরীকে নানা সময় কু-প্রস্তাব প্রদান করতো। শারীরিক অসুস্থ বোধ করলে মাথা টিপে দেওয়ার প্রস্তাব দিতো। বিভিন্ন সময় হাত ধরে ফেলা সহ গায়ে হাত দেয়ার বিষয়টি অসহনীয় হয়ে উঠলে এই শিক্ষিকা নিরুপায় হয়ে ১৩/০৮/২০২২ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ওই শিক্ষিকাকে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। পরে নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় ২২/০৮/২২ ইং তারিখে জিডি করেন উম্মে হাবিবা (নাম্বার-১০৮৬)।
এদিকে জিডি করায় আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন প্রধান শিক্ষক হারুনর রশীদ। তিনি নানা ভাবে ওই শিক্ষিকাকে হুমকি প্রদান করলে মামলার বাদী আজ ০২/০১/২০২৩ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করেন।
এদিকে যৌন হয়রানির বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখ সভা করলে, সেখানে প্রধান শিক্ষক হারুনর রশীদের উপস্থিতিতে উপস্থিত সকলে তাকে বদলীর সুপারিশ করে, যা সভার কার্য বিবরণীতে সকলের স্বাক্ষরে লিপিবদ্ধ করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে হারুনর রশীদ জানান, স্কুল কমিটির সহ সভাপতি আবু তৈয়ব সোহেল ষড়যন্ত্র করে প্রতিবন্ধী শিক্ষিকাকে ব্যবহার করে এসব করাচ্ছেন। সোহেল বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি প্রদান সহ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মাঝে গ্রুপিং সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন সোহেল আমাকে হুমকি দেয়ায় আমি তার বিরুদ্ধে জিডি করেছি। তার বিরুদ্ধে জিডি করাতে সে এ মামলা করিয়েছে।
বাদী পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট নূর মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শশাংকমালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উম্মে হাবিবাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
