চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউড়িতে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে চাঁদার দাবিতে মো. মহিউদ্দীন প্রমানিক ওরফে মইনুদ্দিনকে (৪২) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মো. ফয়সাল ইসলাম বাবু ওরফে পিস্তল বাবুসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা এ নিশ্চিত করেছে।
আজ রোববার (১২ জুন) দুপুরে কোতোয়ালী থানায় সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
এর আগে আসামিদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ছুরিকাঘাতে ব্যবহার করা টিপ ছোরা।
গ্রেপ্তাররা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার ১ নম্বর ইউনিয়নের নুর ইসলাম চেয়ারম্যান বাড়ির লোকমান হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল ইসলাম বাবু ওরফে ফয়সাল বাবু ওরফে পিস্তল বাবু, একই জেলার নবীনগর থানার শিবপুরের মো. বাবুল মিয়ার ছেলে মো. সুমন মিয়া (২৯) ও চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার ভুলু সওদাগরের ১ নম্বর গলির মৃত হোসনে আরা বেগমের ছেলে মো. রুবেল।
সংবাদ সম্মেলনে উপ পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দীন বলেন, ভুক্তভোগী মইনুদ্দিন ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার ইয়াছমিন আক্তার টিনার কাছ থেকে পিস্তল বাবু ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়।
গত ৯ মে রাত রাত চারটায় ইয়াছমিন আক্তার দোকানের জন্য মালামাল আনার পর নগরীর কাজীর দেউড়িতে বাসার ঢোকার সময় আসামি পিস্তল বাবু ফের ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তবে ইয়াছমিন চাঁদা দিবে না বলে অপরাগতা প্রকাশ করে।
এ সময় পিস্তল বাবুসহ তার সহযোগিরা চাঁদা না পেয়ে ঢাকা থেকে আনা থ্রি-পিচের কাপড় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এসময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মোবারক হোসেন সজিব নামে এক ব্যক্তির বাম পায়ে টিপ ছোরা দিয়ে এলোপাতাড়ি জখম করে। ওই সময় মইনুদ্দীন বাধা দিলে তার দুই পায়ের উরু ও বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে জখম করে। পরে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মইনুদ্দিন মারা যায়।
সিএমপি উপকমিশনার আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযানে নামে। অত্যন্ত ধূর্ত পিস্তুল বাবু একাধিকবার মোবাইল নম্বর, লোকেশন পরিবর্তন করছিল। সে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি সিএনজি অটোরিকশার থেকে পিস্তল বাবু নামার সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে চিহ্নিত করে। পরে স্থানীয়রাও আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশকে সহায়তা করে।
এক প্রশ্নে সিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, পিস্তুল বাবুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে সে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার নোবেল চাকমা, সিনিয়র সহকারী কমিশনার মুজাহিদুল ইসলাম, কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) চৌধুরী রেজাউল করিম, পরিদর্শক (অপারেশন) রুবেল হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।
