চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানাধীন ঈদগাঁ দুলহান কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় বাংলাদেশ আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ২০ জনের মতো আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর হালিশহর থানার ঈদগাঁ এলাকার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে ভোটগ্রহণ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এদিকে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শ্রমিকরা নগরীর কদমতলী শুভপুর বাস ষ্টেশন ও একেখান এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল থেকে আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের নির্বাচন চলছিল। মোট ৩৫৬১ জন ভোটার। একজন ভোটারকে ৩০টি ভোট দিতে হচ্ছে; অথচ ভোট গ্রহনের বুথ(কক্ষ) ছিল একটি। সকাল থেকে ভোটাররা দীর্ঘ লাইন ধরে ভোট দেওয়া শুরু করলেও বুথ একটি হওয়ার কারনে ভোটারের লাইন সহজে শেষ হচ্ছিলনা। একজন ভোটারকে ৩-৪ ঘন্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোট ঠিক ঠাক ভাবে চললেও দুপুরের পর সাধারণ সম্পাদক পদে এক প্রার্থী নির্বাচনে জাল ভোট হচ্ছে বলে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। এই নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজেনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন। সাধারণ সম্পদ পদে দুই প্রাথীই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত বহিরাগত লোকজন জড়ো করেন। পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ২০ জনের মতো আহত হয়েছেন।
এই ব্যাপারে হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, সকাল থেকে ঈদগা বৌবাজার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে আন্ত:জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন শুরু হয়। নির্বাচনে সাড়ে ৩ হাজার ভোটার অথচ বুথ করেছে একটি। একজন ভোটারকে ৩০টি ভোট দিতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ লাইন দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেরী হওয়ার কারনে একটি পক্ষ ভোটে কারচুপি হওয়ার অভিযোগ তুলে। এই নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করলে পুলিশকেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সচিব মনোয়ার হোসেন বলেন, সকাল থেকে সুষ্ঠু ভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ১০টার পর থেকে জাল ভোট দেয়া হচ্ছে বলে একটি পক্ষকে অভিযোগ করা হয়। এই নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বিকেলে নগরের কদমতলী ও এ কে খান মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এই ব্যাপারে সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরাম উল্লাহ জানান, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে ঘিরে কদমতলী বাস ষ্টেশন এলাকায় শ্রমিকরা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করি। নির্বাচন হয়েছে হালিশহর থানাধীন ঈদগা বৌবাজার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এখানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছিল।
এদিকে, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে কদমতলী রেলগেট এলাকায় সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েছে এই রুটে চলাচল করা সাধারণ মানুষ। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদেরকে সড়ক থেকে তুলে দিয়ে যানবাহন চলাচলে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনেন।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
