ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদন্ডের মধ্যে ২ জনের দণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকী ১০ দণ্ডপ্রাপ্তকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
আদালতের রায়ে সন্তোষ জানিয়েছে নুসরাতের পরিবার ও এলাকাবাসী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তার সন্তানদের নিরাপত্তা দাবি করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে রায় ঘিরে নুসরাতের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। নিম্ন আদালতে রায়ের পর থেকে দুজন পুলিশ সার্বক্ষণিক পাহারায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় উপলক্ষে আজ বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন নুসরাত। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।
হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ আজ মামলার রায় দেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলো– মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদদৌলা এবং ওই মাদ্রাসার ছাত্র শাহাদাৎ হোসেন শামীম। এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত চার ছাত্র হলো– নুরুদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, সাইফুর রহমান জোবায়ের ও উম্মে সুলতানা পপি।
আরএইচ/ চট্টগ্রাম নিউজ
