বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনীতিবিদরা সাধারণত বক্তৃতা দিয়ে চলে যান, কিন্তু বিএনপি জনগণের সঙ্গে জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দায়বদ্ধতার একটি প্রক্রিয়া আমরা বিএনপিতে বিভিন্ন সভা ও সেমিনারের মাধ্যমে স্থাপন করছি। প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে জনগণের কাছে রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজিত ‘আমার প্রথম ভোট ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম. রাজিবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও হাটহাজারী আসনের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী, রাঙ্গুনিয়া আসনের মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির ও ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর।
আমীর খসরু বলেন, “বৃহৎ সভাগুলোতে বক্তৃতার সময় কমিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব দীর্ঘ করা হচ্ছে। ঢাকায় এবং আজ চট্টগ্রামেও সুন্দর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি আমাদের নতুন রাজনীতির সংস্কৃতি।”
বক্তব্যের শুরুতে অতিরিক্ত সম্বোধনের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা স্টেজে আসবেন, মাইকে সরাসরি মূল বিষয়ে কথা বলবেন। ‘জিন্দাবাদ’ ধ্বনি বা অতিরিক্ত সম্বোধন সময়ের অপচয়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের এই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি করেছে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে এনেছেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। গণতন্ত্রের ইতিহাস বিএনপির সঙ্গেই যুক্ত। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির পথও প্রথম খুলেছে বিএনপি।”
বিএনপির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আগামীর মেগাপ্রজেক্ট বাস্তবায়নে আমরা চারটি নীতি অনুসরণ করব— ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ। ১৮ কোটি মানুষের জন্য আমাদের পরিকল্পনা হবে স্বচ্ছ ও সঠিক।”
প্রশ্নোত্তর পর্বে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যুব সমাজ ও মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য পরিকল্পনা রয়েছে। যারা এসএসসি, এইচএসসি বা স্নাতক পাস করেছেন, তাদের আইটি স্কিলে দক্ষ করে তোলা হবে। ছয় মাস থেকে এক বছরের প্রশিক্ষণে তারা অনলাইন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবেন। মহিলারাও ঘরে বসে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য—সবার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা ও অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়িত করা।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুব সমাজ থেকে শুরু করে সবাই অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকুক। ঘরে বসেও নারী-পুরুষ উৎপাদন, ডিজাইনিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এতে পণ্যের মান বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, “নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে জেন-জি প্রজন্ম। বিএনপি ও তারেক রহমান সেটি বুঝে আগামীর জন্য পরিকল্পনা করছে। আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় সব শ্রেণির মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
আর এইচ/
