চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর ৭৫ শতাংশ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জানান, চারটি প্রধান প্রকল্পের মধ্যে ৮৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা গত ১৪ মে চট্টগ্রাম সফরে নির্দেশ দিয়েছিলেন, এ বছরের মধ্যে নগরের জলাবদ্ধতা অন্তত ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এখন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হয়েছে।

৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম বলেন, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। এর ফলে ২০২৩ সালে যেখানে ১১৩টি এলাকায় জলাবদ্ধতা ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা স্থায়ী হতো, সেখানে এখন তা ২১টি এলাকায় ২ থেকে ৪ ঘণ্টায় নেমে এসেছে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১০টিতে নামিয়ে আনা এবং ২০২৭ সালের মধ্যে নগরের জলাবদ্ধতা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,“চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা হ্রাসের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমরা দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করছি।”
তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে লিখিত পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারকে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম জানান, চাক্তাই খাল থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য ১২টি পাম্পের মধ্যে ১০টি চালু হয়েছে। সবগুলো কার্যকর হলে প্রতিদিন ২৪ কোটি লিটার পানি অপসারণ সম্ভব হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, স্থানীয় দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব অর্থায়নে দুটি খাল সংস্কার করেছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন নাগরিক প্রতিনিধি।
আর এইচ/
