তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে দেশের ছাত্র-জনতাকে গুম, খুন বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। ধাপে ধাপে তাদের বিচার করা হবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহফুজ আলম বলেন, “অঙ্গীকার নিয়ে এসেছিলাম যে বিচারের কাজ শুরু করবো, আমরা সেই বিচারের কাজ শুরু করতে পেরেছি। যারা দেশের ছাত্র-জনতা হত্যা ও গুমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের সবারই বিচার হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ অনেকের বিচার ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হবেন, তারা এ বিচার প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”
উপদেষ্টা জানান, রামগঞ্জ তথা লক্ষ্মীপুর জেলায় উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাদক নিরাময়কেন্দ্র, নার্সিং কলেজ, সদর হাসপাতাল উন্নতিকরণ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন করতে চাই।”
মাহফুজ আলম বলেন, “শেখ হাসিনা যে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে, সেগুলো রেখে আমরা নির্বাচন করতে পারি না। নির্বাচন করার আগে হাসিনার দালালদের উৎখাত করতে হবে এবং খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার করেই আমাদের নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।”
তিনি জানান, “আগামী সপ্তাহে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিচার হবে এবং আমরা একটি রায় পাবো। এতে জুলাই শহীদ পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।”
সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে— এটি বাংলাদেশের বড় অর্জন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আগামীতে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে— যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য, আইনের শাসন ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। গুম-খুনের রাজনীতি আর ফিরে আসবে না।”
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আসুন, বাংলাদেশপন্থার মাধ্যমে আমরা যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি আছি, ঐক্যবদ্ধ হই। প্রয়োজনে আমরা আবার লড়াই করব, শহীদদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শাহাদাতের পথও বেছে নেব।”
সভা শেষে তথ্য উপদেষ্টা দরিদ্র কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ, জুলাই শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়ার নবম মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রবিন শীষের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন— এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক মাহাবুব আলম, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্তরের নাগরিকরা।
এর আগে সকালে উপদেষ্টা রামগঞ্জে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার ও পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
আর এইচ/
