চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে চোরাইকৃত সরকারি মালামাল ও ওষুধসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে থানাধীন মুন্সিপুকুরপাড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. লিয়াকত আলী (৩৫) এবং মো. বাবুল মিয়া (২৬)।
এ ঘটনায় পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের দেখানো মতে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় চোরাইকৃত সরকারি মালামাল ও ঔষুধ সামগ্রী। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে ছিল সাউন্ড সিস্টেম, প্রজেক্টর, মাইক্রোফোন, কম্পিউটার সরঞ্জাম ও বিভিন্ন প্রকার সার্জিক্যাল ওষুধ ও উপকরণ।
চুরির ঘটনাটি ঘটেছে চমেক হাসপাতালের ৩৩ নম্বর গাইনী ওয়ার্ডের ক্লাসরুমে। এ বিষয়ে হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার ভারপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাস্টার ও মামলার বাদী মো. কামরুজ্জামান জানান, গত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় গাইনী বিভাগীয় প্রধান ডা. ফাহমিদা ইসলাম চৌধুরী ক্লাসরুম ব্যবহার শেষে তালা দেন। পরদিন (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে তিনি ক্লাসরুম খুলে দেখেন রুমে থাকা সরকারি মালামাল ও ঔষুধসামগ্রী চুরি হয়ে গেছে।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল—একটি ডেল ব্র্যান্ডের কম্পিউটার মনিটর (মূল্য ১২,০০০ টাকা), একটি স্যামসাং মনিটর (১৫,০০০ টাকা), আহুজা ব্র্যান্ডের সাউন্ড সিস্টেম (৩৫,০০০ টাকা), ওয়ারলেস মাইক্রোফোন রিসিভার (৪,৫০০ টাকা), দুইটি মাইক্রোফোন (১০,৪০০ টাকা), একটি ইপসন প্রজেক্টর (৪৩,০০০ টাকা) এবং অন্যান্য সরঞ্জামসহ সরকারি ঔষুধসামগ্রী। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর তদন্ত কর্মকর্তা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোরদের শনাক্ত করেন এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, “চমেক হাসপাতাল থেকে সরকারি মালামাল চুরির ঘটনায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে চুরি হওয়া অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।”
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আর এইচ/
