চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তার খামারে গরু লুট করতে ব্যর্থ হয়ে প্রহরীকে ছুরিকাঘাত করেছে মুখোশধারী ডাকাতরা। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়কূল সন্দিপ্যা পাড়া জিলানীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত প্রহরী মো. এহেসান (৪৫) একই ইউনিয়নের বনামুড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাতকানিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, রাতের গভীরে ৬-৭ জনের একটি ডাকাতদল খামারে প্রবেশ করে গরু লুটের চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রহরী এহেসান বিষয়টি টের পেয়ে মালিককে ফোন দিলে ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়ে গলা ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে। প্রহরীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় এহেসানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
খামারের মালিক ও ব্যাংক এশিয়ার অবসরপ্রাপ্ত জোনাল হেড মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রহরীর ফোন পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তার আগেই ডাকাতরা হামলা চালায়। এলাকাবাসী এগিয়ে আসায় তারা লুটে ব্যর্থ হয়। আহত এহেসান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।” তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ছদাহা ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য হামিদা বেগম বলেন, “গরু লুট করতে ডাকাত দল খামারে প্রবেশ করেছিল। প্রহরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে তারা। আমরা খামারিদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছি, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।”
এর আগে একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নউরগ্যাপাড়া এলাকায় গত ৩১ জুলাই রিক্সাচালক আবদুল মাবুদের খামার থেকে ছয়টি গরু লুট হলেও এখনও উদ্ধার হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ওই পরিবারটি।
আবদুল মাবুদের মেয়ে হালিমা বেগম বলেন, “ছয়টি গরুর মধ্যে দুইটি ছিল দুধের গরু। দুধ বিক্রি করে সংসার চলত। এখন আমরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। পুলিশের কাছে গেলে খারাপ ব্যবহারও করেছে।”
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির উদ্দিন বলেন, “এ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুইজন জামিনে আছে বলে জেনেছি। গরুগুলোর সন্ধানে শিগগিরই চকরিয়ায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কাওসার মাহমুদ বলেন, “নতুন ঘটনার বিষয়ে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।”
আর এইচ/
