আলেম-উলামারা হচ্ছেন জাতির পথ প্রদর্শক মিললাতের রাহবার। ইসলামের নিভু নিভু প্রদীপ প্রজ্জলনের দায়িত্ব হচ্ছে উলামা- মাশায়েখদের। দেশের আনাচে- কানাচে অসংখ্য আলেম- উলামা ছড়িয়ে- ছিটিয়ে রয়েছেন। কিন্তু তারা তাদের সুমহান দায়িত্বের কথা বেমালুম ভুলে গেছেন। তাদের মধ্যকার অনৈক্য, দ্বিধা- বিভক্তি, ফতোয়াবাজি এবং ফেরকাবাজির কারণে তারা সর্বত্র তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য হচ্ছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঈদগাঁও উপজেলা আয়োজিত উলামা সম্মেলন ২০২৫ এ বক্তারা একথা বলেন।
ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে ১২ জুলাই শনিবার সকালে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শাখা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ছলিম উল্লাহ জিহাদী।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল আজিমের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মাওলানা মোঃ হাবিব উল্লাহ। প্রধান বক্তা ছিলেন মজলিসুল উলামা বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি উপাধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী।
উলামা মাশায়েখর মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যাপক মাওলানা আবু বকর, মাওলানা আব্দুর রহমান আজাদ, প্রভাষক কারি মাওলানা নুরুল আলম, উপজেলা জামায়াতের নায়েব আমির মাওলানা ছৈয়দ নুর হেলালি, ইসলামী আন্দোলন ঈদগাঁও উপজেলা শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা রমজান আলী, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি মাওলানা হারুন অর রশিদ, ঈদগড়ের জামাআত নেতা মাওলানা ছৈয়দুল হকসহ অনেকে।
উপস্থিত ছিলেন মাস্টার ছৈয়দ নুর হেলালী, মাস্টার নুরুল হক, অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ছৈয়দ, সুপার আনিস মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সুপার মাওলানা মনছুর আলম, মাওলানা আলী আহমদ হেলালী, মাওলানা আলী আহমদ, মাওলানা সরোয়ার কামাল প্রমুখ।
বক্তারা আরো বলেন, আলেম-ওলামাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সমাজকে পরিবর্তন করা। সকল প্রকার অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমকে বিদূরিত করার জন্য তাদেরকে আল্লাহ তা’আলা এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। মানবতার মুক্তির জন্য মহানবী (সঃ) তার নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তিমি ২৭ টি যুদ্ধে সেনাপতির দায়িত্ব পালন ও ৮৭ টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। তাই আলেম- ওলামাদের রাষ্ট্র ও জাতির আমল পরিবর্তন করতে এগিয়ে আসতে হবে।
তারা বলেন, জামায়াত ইসলামী জাতিকে গভীর অন্ধকার থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ওলামা- মাশায়েখদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাই ইসলামের দুশমনদের প্রতিরোধে আলেম-ওলামাদের জিহাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।
বক্তাগণ বলেন, একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে হঠাতে গত ১৭ বছর আমাদেরকে সংগ্রাম করতে হয়েছে।এখন অন্য একটি গোষ্ঠী দেশব্যাপী ফ্যাসিবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এ ব্যাপারে সকলকে সতর্কতার সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আলেম- উলামারা আরো বলেন, সচিবাল হতে শুরু করে দেশের প্রশাসন যন্ত্রে অমুসলিমদের জয়জয়কার অবস্থা। কিন্তু তাদের কেউই ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধের কথা বলছে না। তাই সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
এদিকে একই দিন বিকেলে পেশাজীবী সমাবেশের আয়োজন করে ঈদগাঁও উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মোবারক আখতার সহ পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
আর এইচ/
