ফটিকছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। শুক্রবার লোকালয় থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ভেসে উঠছে বন্যার ফলে রেখে যাওয়া ক্ষত। বন্যার পানি যতই কমছে ক্ষত ততই স্পষ্ট হচ্ছে।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক,, পুল কার্ভাটের চিত্র দেখে হতবিহবল হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার (২৪ আগস্ট) উপজেলার রোসাংগিরী সমিতিরহাট, নানুপুর, বক্তপুর, ধর্মপুর , জাফতগর আব্দুল্লাহপুর ও খিরাম ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বাড়ি ঘর থেকে পানি নেমে যাওয়ায় দূর্গতদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
অনেকে বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া গৃহস্থালী সামগ্রী শুকানোর কাজে নেমে পড়েছেন।পাশাপাশি বিগত কয়েক দিনের বন্যায় ঝিমিয়ে পড়া স্থানীয় হাট বাজার গুলো মানুষের পদচারণায় মূখর হয়ে উঠেছে।
তবে হালদা নদী ও অধিক খাল পরিবেষ্টিত ইউনিয়ন হওয়ায় সুয়াবিল, সুন্দরপুর, নারায়ণহাট দাঁতমারা ও বাগানবাজারের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির নীচে।
উত্তর চট্টগ্রামের বানিজ্যিক জনপদ নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন দোকান খোলা দুরের কথা ঘর থেকে বের পর্যন্ত হতে পারেনি। ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি কয়েকদিন। এখন পানি নেমে যাওয়ায় কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছি।
রোসাংগিরী ইউপি চেয়ারম্যান শোয়েব আল সালেহীন আক্ষেপ করে বলেন অনেক চেষ্টা তদবীর করে রাস্তাগুলো উন্নয়ন করেছিলাম। এখন বন্যায় সব ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। যা দেখলে চোখে কান্না আসে।
অন্যদিকে, সরকারী সহায়তার পাশাপাশি ব্যাক্তিগত উদ্যোগে ইউনিয়নের সর্বত্র ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে বলে জানান নানুপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুন নবী রোশন।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি দুর্গতদের সেবা দিতে। ত্রাণ বিতরণ ও জানমাল উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও প্রশাসন সরাসরি কাজ করছে। তবে পুরো উপজেলায় কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটি এখন বলা যাচ্ছে না। বন্যায় স্বেচ্ছাসেবীদের কর্ম তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি আরো ত্রান বিতরণকালে খেয়াল রাখতে হবে দুর্গতদের সবার হাতে যেন ত্রান পৌঁছে।
