ভোটের বাকি কয়েক ঘণ্টা। এর মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ১৩ (আনোয়ারা – কর্ণফুলী) আসনের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ভোট গ্রহণে নির্বাচনী সকল সরঞ্জামাদি সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন শুধু ভোটের জন্য অপেক্ষা।
আগামীকাল রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। এর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার কার্যক্রম শেষ করার নিয়ম মেনেই শুক্রবার সকাল ৮টায় সারাদেশে সব ধরনের প্রচারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। এর পরও নানাভাবে অনানুষ্ঠানিক প্রচার এবং পোলিং এজেন্ট চূড়ান্তকরণে প্রার্থীরা ব্যস্ত রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৮টায় প্রচারের সময় শেষ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেউ আইন না মানলে ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কমিশন চাইলে কারও প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আছে। ভোট উপলক্ষে নেওয়া হচ্ছে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় টহলে রয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। আগ্নেয়াস্ত্রসহ চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ১৩ ( আনোয়ারা- কর্ণফুলী) আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনটিতে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তৃণমূল বিএনপি (সোনালি আঁশ) থেকে মকবুল আহম্মদ চৌধুরী সাদাদ, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) থেকে আবদুর রব চৌধুরী টিপু, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) থেকে মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসেন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) থেকে সৈয়দ মুহাম্মদ হামেদ হোসাইন এছাড়াও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) থেকে মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মৌলবি রশিদুল হক বটগাছ প্রতীকে লড়ছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে, আনোয়ারায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ১১৭ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৪৯০ জন। কর্ণফুলীতে পুরুষ ভোটার ৬৭ হাজার ১২৬ জন ও মহিলা ভোটার ৫৯ হাজার ১৩১ জন। দুই উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ জন।
আনোয়ারায় ভোটকেন্দ্র ৭২ টি, কর্ণফুলীতে ৪৬টি, মোট দুই উপজেলায় ১১৮টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে ৩৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ করা হয়েছে। আনোয়ারায় ভোটকক্ষ ৪৮৪টি, কর্ণফুলীতে ২৬৮টি, মোট ৭৫২টি কক্ষ রয়েছে। আনোয়ারায় প্রিসাইডিং অফিসার ৭২ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ৫৩৩ জন, ১ হাজার ৬৬ জন পোলিং এর দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়াও এই দুই উপজেলায় ৫জন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট, ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৬ প্লাটুন সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার ভিডিপির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ ইশতিয়াক ইমন বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রস্তুত। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
