প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রচার-প্রচারনার মাধ্যমে পাহাড় উপাত্যকায় বইতে শুরু করেছে ভোটের হাওয়া।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের দিন সোমবার ১৮ ডিসেম্বর বেলা ১২ টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বৈধ প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করেন। জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে প্রথমে নৌকা প্রতীক গ্রহণ করেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। পরে একে একে জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা (লাঙ্গল), তৃণমূল বিএনপির উশ্যেপ্রু মারমা (সোনালী আঁশ) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মোঃ মোস্তফা (আম) প্রতীক গ্রহণ করে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ৯টি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়ি ২৯৮ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৩৪৬ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬২ হাজার ৬১ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৮৫ জন। গত বারের চেয়ে এবার ভোটার বেড়েছে ৭৩ হাজার ৬০৩ জন।
এসময়, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, চাইথোঅং মারমা, মংক্যচিং চৌধুরী, এডভোকেট আশুতোষ চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এবার খাগড়াছড়িতে নৌকার প্রতিদন্ধী লাঙ্গল, সানালী আঁশ ও আম প্রতীক।
প্রতীক বরাদ্দের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান, সকল প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান।
একসময় পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি এ জনপদে গত ১৪ বছরে আওয়ামীলীগ সককারের সামগ্রিক নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে পার্বত্য এ জেলাতে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর পর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপনা। খাগড়াছড়িতে বর্তমান দৃশ্যমান নানা উন্নয়ন এবং এখানকার মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্বের যে মেলবন্ধন তা অক্ষুণ রাখতে খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং সংসদীয় আসটির বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে টানা তৃতীয় বারের মত হ্যাট্রিক বিজয় করতে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা ।
উল্ল্যেখ, এবার খাগড়াছড়ি ২৯৮ আসনটিতে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পানছড়ি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সমীর দত্ত চাকমা ও কংগ্রেস পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন বাতিল হয়। অপরদিকে জাকের পার্টির প্রার্থী মো. হোসেন’র মনোনয়নপত্র কেন্দ্রীয়ভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
এবার খাগড়াছড়িতে ভোটের মাঠে সংসদ সদস্য হওয়ার আশায় আলোচনার মাঠে ৫ প্রার্থীর থেকে জাকের পার্টির প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বীতার মাঠে লড়ছে, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (নৌকা), জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা (লাঙ্গল), তৃণমূল বিএনপির উশ্যেপ্রু মারমা (সোনালী আঁশ) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মোঃ মোস্তফা (আম) প্রতীক নিয়ে।
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি একযোগে সারাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
