কক্সবাজার পুলিশের তালিকাভুক্ত এক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ এবং ‘মাদক ও অস্ত্র চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র্যাব।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফের কাটাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাফরুল ইসলাম ওরফে বাবুল মেম্বার নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বৃহস্পতিবার কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাশের দেশ থেকে চোরাকারবারির অন্যতম হোতা, কক্সবাজারের শীর্ষ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী এই জাফরুল ইসলাম ওরফে বাবুল মেম্বার। স্থানীয়রা তাকে মাদক চোরাচালানের গডফাদার হিসেবে চিনত।
গ্রেপ্তারের সময় বাবুলের কাছ থেকে ৫৫ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি উদ্ধারের কথা জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
মঈন বলেন, মাদকের কারবারসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ২০ থেকে ২৫ জনের একটি চক্র গড়ে তুলেছেন বাবুল।
মাদক কারবারের পাশাপাশি এলাকায় চাঁদাবাজি, স্বর্ণ চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান, অবৈধ বালু উত্তোলন, চোরাই পথে গবাদি পশু আনা, অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটির ব্যবসাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাবুল ২০০৫ সালের পরে টেকনাফ এলাকায় মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পরেন এবং পাশের দেশ থেকে অবৈধ পথে মাদক এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া শুরু করেন।
২০১৭ সালে আরেক মাদক কারবারি লুৎফুর রহমানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘পলাতক সন্ত্রাসী’ নবী হোসেনের সঙ্গে বাবুলের পরিচয় হয়। এরপর তিনি বড় পরিসরে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে র্যাবের ভাষ্য।
মঈন বলেন, নবী হোসেনের সাথে চুক্তি করে চিংড়ি ব্যবসার আড়ালে রাতের আঁধারে পাশের দেশ থেকে নাফ নদী দিয়ে মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান করে আসছিল বাবুল। তার দলের ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র সদস্য পাহারা দিয়ে সীমান্ত পথে দেশে আনত মাদকের চালান।
এভাবে সপ্তাহে ৪ থেকে ৫টি ইয়াবার চালান এনে বালুখালী ক্যাম্প সংলগ্ন কয়েকটি চিংড়ির খামারের ভিতরে লুকিয়ে রাখত।
প্রতি চালানে প্রায় ২ লাখ ইয়াবা থাকত এবং দেড় লাখ টাকায় কিনে এনে তিন থেকে চার লাখ টাকায় বিক্রি করা হত বলে র্যাবের ভাষ্য।
বাবুল অবৈধভাবে স্বর্ণ এনে তা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
মঈন বলেন, জাফরুল ইসলাম বাবুল ২০০১ সালে চট্টগ্রামের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে ভর্তি হয়ে এক বছর পড়াশোনা করার পর বন্ধ করে দেন।
পরে ২০০৩ সালে স্থানীয় কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ২০০৫ সালে পালংখালি এলাকায় জাবু নামের এক ব্যক্তির খুনের পর চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে থাকেন।
বাবুলের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে টেকনাফ থানায় একটি মাদক মামলা হয়। ২০১৭ সালে জাবু হত্যা মামলায় প্রায় ২ মাস কারাগারে থেকে পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি।
চোরাকারবার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে’ বাবুল কক্সবাজারে ফ্ল্যাট, জমি, মাছের খামারসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলে র্যাবের ভাষ্য।
কক্সবাজারের উখিয়া থানায় হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে নয়টি মামলা রয়েছে বাবুলের বিরুদ্ধে।
