ফটিকছড়ি উপজেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ছাব্বিশ বছর পূর্বে ১৯৯৭ সালে। ত্রি বার্ষিক এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বর্তমানে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে শাহ আলম শিকদার সভাপতি এবং এস এম আকতার মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে ভাবে ঢেলে সাজানো হয়।
পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি- জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে মামলা -হামলার কারনে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন সংগঠনটির অধিকাংশ নেতা কর্মী। এমন পরিস্থিতিতে বৃহৎ একটি অংশ রাজনীতি ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জমান। যার ফলে চেইন অফ কমান্ড ভেঙ্গে পড়ে উপজেলা যুবলীগের।
মাঝখানে সম্মেলনের উদ্দ্যশ্যে ২০১২ সালে কমিটি বিলুপ্ত করে সভাপতি শাহ আলম শিকদারকে আহবায়ক, সাধারণ সম্পাদক আকতার মিয়া ও জেলা যুবলীগ নেতা মুজিবুর রহমান স্বপনকে যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব দিয়ে এডহক কমিটি গঠন করে দেয় জেলা যুবলীগ।
এদিকে,পূর্বের কার্যনির্বাহী ও আহবায়ক কমিটি মিলিয়ে ছাব্বিশ বছর পার করলেও এখনো পর্যন্ত সম্মেলন করতে পারেনি উপজেলা যুবলীগ।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় তৃণমুলের নেতা কর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে অনেকে যুবলীগের রাজনীতিতে সম্পকৃক্ত থাকার আগ্রহ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা যুবলীগের দায়িত্বশীল এক নেতার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সম্মেলন হয়েছে দুই যুগ পার হয়ে ছাব্বিশ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় নয়া নৃতৃত্ব সৃষ্টি হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দ্রুত সম্মেলন করে নতুনদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া সময়ের দাবী।
আগামীতে যুবলীগের নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক সাহেদুল আলম সাহেদের বক্তব্য জানতে চাইলে বলেন, আমাদের সাথে ছাত্ররাজনীতি করেছেন এ রকম ঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ যুবলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে উদগ্রীব হয়ে আছে। তবে যথা সময়ে সম্মেলন না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক শাহ আলম শিকদারের মন্তব্য জানতে চাইলে বলেন, উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন করার অভিপ্রায় নিয়ে অধিকাংশ ইউনিয়নে সম্মেলন সমাপ্ত করেছি। তবে নানা জটিলতায় বেশকয়েকটি ইউনিয়নে সম্মেলন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। যার কারনে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বার বার পিছু হঠতে হয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম রাশেদুল আলম বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলন শুরু করে দিয়েছি। ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছ।
তিনি আরো বলেন, অনেক সময় সম্মেলন করতে চাইলেও সম্ভব হয়ে উঠেনা। অচিরেই সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব উপহার দেয়া হবে।
