সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় দেশের সমুদ্রবন্দর গুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই কারণে আগামী তিন দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি ও ভারি বৃষ্টির আভাসও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হওয়ার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে।
এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দর গুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর গুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলার পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
এর আগে উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় বন্দরগুলোকে শুক্রবার তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছিল।
রোববার লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে সরে গেলে সতর্ক সংকেত নামিয়ে নিতে বলা হয়েছিল।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক এ বিষয়ে বলেন, এই সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে। এর প্রভাবে টানা ৬ অক্টোবর পর্যন্ত থেমে থেমে সারাদেশে বৃষ্টিপাত হবে। তবে এসময় দেশের কোথাও কোথাও আবার ভারি বৃষ্টিপাতও হতে পারে।
এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে পূর্ব মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে।
মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পূর্ব উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিসহ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
তবে বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও ওইসব এলাকায় একই ধরনের বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে টেকনাফে; ৬৮ মিলিমিটার।
