নতুন বলে আরও একবার নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতে খেলতে যাওয়ার আগে ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে প্রথম পাওয়ার প্লেতে দারুণ বোলিং করেছিলেনন তিনি।
একই ধারা বজায় রাখলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও। তার আগে ব্যাটিংয়ে আরও একবার ভালো ইনিংস খেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ম্যাচটি জিতেছে ইংল্যান্ড।
গুয়াহাটিতে বৃষ্টিতে ৩৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে ইংল্যান্ডের জয় ৪ উইকেট। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৮৮ রান করে বাংলাদেশ। পরিবর্তিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৭ রান। স্রেফ ২৪.১ ওভারেই সেটি ছুঁয়ে ফেলে জস বাটলারের দল।
আগের প্রস্তুতি ম্যাচের মতো এদিনও বিশ্রামে ছিলেন নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলকে নেতৃত্ব দেন সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সাকিব ছাড়া বাকি সবাই এই ম্যাচে নিজেদের ব্যাটিং-বোলিং ঝালিয়ে নেন।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে ইংল্যান্ড। তবে এক প্রান্তে তাদের দমিয়ে রাখতে কিছুটা সফল হন মুস্তাফিজ। তার বেরিয়ে যাওয়া বলে স্লিপে ক্যাচ দেন দাভিদ মালান। ইয়র্কার লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড ২১ বলে ৩৪ রান করা জনি বেয়ারস্টো।
এরপর বাটলার, হ্যারি ব্রুকরাও দ্রুত রান তোলায় মনোযোগ দেন। শরিফুল ইসলামের বলে বাটলারের বিরুদ্ধে অন্তত তিন বার ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতায় সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। ১৫ বলে ৩০ রান করা ইংলিশ অধিনায়ককে শেষ পর্যন্ত বাউন্সারে থামান শরিফুলই।
পরে মইন আলির ৩৯ বলে ৫৬ রানের ঝড়ে ত্বরান্বিত হয় ইংল্যান্ডের জয়। তিন নম্বরে নেমে ৪০ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন জো রুট।
ম্যাচের প্রথমভাগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে এদিনও দারুণ শুরু করেন তানজিদ হাসান। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তিনি মারেন ছক্কা।
এরপর আরও কিছু দৃষ্টিনন্দন শট খেলেন তরুণ বাঁহাতি ওপেনার। আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাস অবশ্য অল্পেই ফেরেন। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় তিনি আউট ছিলেন না।
আগের ম্যাচে চমৎকার ফিফটি করা তানজিম এদিন পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি। মার্ক উডের বল স্ট্যাম্পে টেনে এনে বোল্ড হন ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে। তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত, পাঁচে নামা মুশফিকুর রহিমরা পারেননি বেশিক্ষণ উইকেটে টিকতে।
চার নম্বরে নেমে আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন মিরাজ। উডের গতিময় বোলিংয়ের বিপক্ষে শুরুতে কিছুটা ধুঁকলেও ক্রমেই মানিয়ে নেন এই অলরাউন্ডার। তার টানা দ্বিতীয় ফিফটির ইনিংস থামে ১০ চারে ৮৯ বলে ৭৪ রান করে।
আগের দিন ব্যাটিং না পাওয়া মাহমুদউল্লাহ এদিন সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। সম্ভাবনাময় শুরুর পর ১৮ রান করেই ফিরে যান তিনি।
বাংলাদেশের ইনিংসের ৩০ ওভার পর নামে বৃষ্টি। এরপর আর তেমন ছন্দ পায়নি ইনিংস। তাওহিদ হৃদয় আউট হন স্রেফ ৫ রান করে। বৃষ্টির পর ৭ ওভারে বাংলাদেশ করে স্রেফ ৩৫ রান।
আগামী বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গত আসরের ফাইনালিস্ট নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। এর দুই দিন পর ধর্মশালায় আফগানিস্তারে বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৩৭ ওভারে ১৮৮/৯ (তানজিদ ৪৫, লিটন ৫, শান্ত ২, মিরাজ ৭৪, মাহমুদউল্লাহ ৮, হৃদয় ৫, মেহেদি ৩, নাসুম ০, তাসকিন ১২*, শরিফুল ৩*; টপলি ৫-১-২৩-৩, কারান ৫-০-২৩-১, উইলি ৫-১-২৬-২, ওকস ৫-০-২৫-০, উড ৩-০-৯-১, অ্যাটকিন্সন ৫-০-৩১-০, রশিদ ৫-১-২৭-২, লিভিংস্টোন ২-০-১৭-০, মইন ২-০-৭-০)
ইংল্যান্ড: (লক্ষ্য ১৯৭) ২৪.১ ওভারে ১৯৭/৬ (বেয়ারস্টো ৩৪, মালান ৪, রুট ২৬*, ব্রুক ১৭, বাটলার ৩০, লিভিংস্টোন ৭, মইন ৫৬, ওকস ১*; মুস্তাফিজ ৩-০-২৩-২, হাসান ৪-০-৩৮-১, শরিফুল ৩-০-৩২-১, তাসকিন ৪-০-২৩-১, তানজিম ৪-০-৩০-০, মেহেদি ২-০-১০-০, মাহমুদউল্লাহ ২.১-০-১৬-০, নাসুম ২-০-২০-১)
ফল: ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী
