বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের হাতে, এমনটাই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ভাষ্যে, আদালত যদি অনুমতি দেয়, তবে খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন।
অসুস্থ খালেদাকে বিদেশ পাঠাতে তার দল বিএনপি জোর দাবি তোলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন। শনিবার এই সাক্ষাৎকার প্রচার হয়।
দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত হয়ে বাসার থাকার মধ্যে এখন চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে রয়েছেন।
তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠাতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। বিএনপি দাবি তুলেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর বিষয়টি আপনারা পুনর্বিবেচনা করবেন কি না, সেই প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাখেন ভয়েস অব আমেরিকার সাক্ষাৎকার গ্রহীতা।
জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে পেরেছে? পৃথিবীর কোনো দেশ দেবে? তাদের যদি চাইতে হয়, আবার আদালতে যেতে হবে, আদালতের কাছে অনুমতি নিতে হবে। আদালতের কাজের উপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যেটুকু করতে পেরেছি, তার জন্য আমার যেটুকু সরকারের ক্ষমতা আছে, সেখানে তার সাজাটা স্থগিত করে তা বাড়িতে থাকার পারমিশনটা দেওয়া হয়েছে। সে নিজেই চিকিৎসা নিচ্ছে। দেশের সব থেকে দামি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এখন তাকে যদি যেতে হয় বাইরে, তাকে এখন যে বাসায় থাকার যে পারমিশনটা দিয়েছি, তা উইথড্র করত হবে। তাকে আবার জেলে যেতে হবে এবং কোর্টে যেতে হবে। কোর্টের কাছে আবেদন করতে হবে, কোর্ট যদি রায় দেয়, তবে সে যেতে পারবে। তাকে আবার জেলে যেতে হবে, কোর্টে যেতে হবে, কোর্ট যদি রায় দেয়, তবে সে যেতে পারবে।
১ লাখের বেশি মামলায় বিরোধী দলের প্রায় অর্ধ কোটি নেতা-কর্মীকে আসামি করার বিষয় নিয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা কেন হয়েছে? দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, অগ্নিসন্ত্রাস …. তাদের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, তারই নির্বাচিত সেনাপ্রধান, তাদের কেয়ারটেকার সরকারেরই মামলা। মামলাগুলো চলতে চলতে একট একটা করে নিষ্পত্তি হচ্ছে। দ্রুত করা হচ্ছে, তা তো না।
প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মামলা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আমার নিজের বিরুদ্ধে তো এক ডজন মামলা দিয়েছিল খালেদা জিয়া। কই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তো আমরা দিইনি।
তারা যেসব অপকর্ম করেছে, সে তুলনায় তো কিছুই করা হয়নি। অপারেশন ক্লিনটহার্টে যে মানুষ হত্যা করেছে, একটারও তো বিচার হয়নি, ইনডেমনিটি দিয়েছে বিএনপি। খুনিদের মদদ দেওয়া, খুনিদের নিয়ে চলা তাদেরই কাজ।
গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনাগুলো তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তাদের কি ফুলের মামলা দিয়ে বরণ করা হবে? বাহবা দেওয়া হবে? যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, সাজা হবে, এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার। অপরাধী, এখানে বিএনপি বলে কিছু নেই। অপরাধী অপরাধীই।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মামলায় এখন অভিযোগপত্র দেওয়া নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, মামলার আবার নতুন পুরাতন কী আছে? নতুন করে অপরাধ করলে নতুন করে মামলা হবে। জগনণের সম্পদ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগের উপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, জিয়াউর রহমান থেকে এই পর্যন্ত, বহু মানুষ তো আপনজন হারা, লাশও তো গুম হয়ে গেছে, আপনারা দেখতেও পারেননি, আমিও পারিনি। আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এত মামলা, তা তো এখনও চলছে।
