চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপি ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়ালে মৃত্যু হয়েছে এক কিশোরের, আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। নিহত কিশোরকে উভয়ে নিজেদের কর্মী দাবি করে, সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে।
শুক্রবার বিকালে আজিমপুর বাজারে এ ঘটনায় জাহিদ হোসেন রুমন (১৫) নামের ওই কিশোর ঘটনাস্থলেই মারা যান।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদ হোসেন সংঘর্ষকালে ওই কিশোর নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ওসি জানান, জোরারগঞ্জ থানাধীন ওসমানপুর ইউনিয়নের আজিমপুর বাজারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়িতে সভা করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সভা শেষে তারা মিছিল বের করে। মিছিলটি ওই সময় আগে থেকেই বাজারে অবস্থান করা আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কর্মীদের মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ লেগে যায়। এতে রুমন নামের কিশোরটি মারা যায়।
নাম প্রকাশ না করে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা বলেন, আগামী ৫ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিএনপির রোডমার্চ সফল করতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিনের বাড়িতে কর্মী সভা হয়। এরপর মিছিল করে বাজারে দিকে আসেন বিএনপি কর্মীরা। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়।
নিহত রুমনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু বলেন, আগামি ৬ অক্টোবর আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ সফল করতে মিরসরাই সদরে উপজেলা ছাত্রলীগের প্রস্তুতি সভা ছিল।
ওসমানপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রানার নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী উপজেলা সদরে প্রস্তুতি সভায় যোগ দিতে আসছিলেন। এসময় বিএনপি কর্মীরা ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় রুমন নিহত হয়েছেন এবং আহ্বায়ক রানাসহ আরও কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন।
নিহত রুমনকে হামলাকারীরা মাথায় আঘাত করেছে এবং সে দৌঁড়ে পানিতে নেমে গেলে সেখানেও তাকে পেটানো হয় বলে অভিযোগ করেন এই ছাত্রলীগ নেতা।
এ বিষয়ে উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরোয়ার উদ্দিন সেলিম নিহত কিশোরকে ছাত্রদলের কর্মী দাবি করে বলেন, রুমন ৫নং ওসমানপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী। সে আজকে প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিল।
সভা শেষে দলবেঁধে বের হয়ে যার যার মত ফিরে যাচ্ছিলেন। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
