রাঙ্গুনিয়ায় সরকারি জমিতে পাকা ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ ও উচ্ছেদের সংবাদ সংগ্রহ করার জের ধরে অনলাইন গণমাধ্যম চট্টগ্রাম নিউজ ডটকম’র রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ সংগ্রহ করার জের ধরে মুঠোফোনে ফোন করে ‘প্রাণ নাশের ’ হুমকি দেন মো. ফারুক নামে এক যুবক। যার একটি অডিও কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হুমকির বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাংবাদিক ইমরান।
অভিযুক্ত মো. ফারুক এবং মো. হুমায়ুন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়ম নগর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড ফুলগাজী পাড়া এলাকার শাহ আলমের পুত্র।
জানা যায়, উপজেলার মরিয়ম নগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ফুলগাজী এলাকায় জানাজার মাঠের পশ্চিমে সরকারি খাস জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছে একই এলাকার স্থানীয় শাহ আলমের পুত্র ফারুক। খবর পেয়ে বাঁধা দেয় উপজেলা প্রশাসন। বাঁধা অমান্য করে আবারও ঘর নির্মাণ অব্যাহত রাখে ফারুক। বিষয়টি জেনে গত বুধবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে উচ্ছেদ চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনারের প্রতিনিধি দল। কিন্তু সহকারী কমিশনারের প্রতিনিধি উচ্ছেদ করার পরেও একই দিনে-রাতে আবারও নির্মাণ কাজ চালায় ফারুক।
এর আগেও এসব সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।উচ্ছেদের পরেও ফের পাকা ঘর নির্মাণ করছে তাঁরা।
মূলত একের পর এক অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করেও থামানো যাচ্ছেনা শাহ আলমসহ তার ছেলে ফারুক ও হুমায়ুনকে। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে সরকারি জায়গায় দিনে-রাতে পাকা ঘর নির্মাণ করছে এই পারিবারিক সিন্ডিকেট।
এ বিষয়ে সাংবাদিক ইমরান হোসেন বলেন, ফুলগাজী পাড়া এলাকার ফারুক এবং হুমায়ুন সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের কারণে এসিল্যান্ড মহোদয় গতকাল উচ্ছেদ চালিয়ে সেই স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। ‘একজন পেশাদার গণমাধ্যম কর্মী হিসেবেই আমি সংবাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এরপর আমি তথ্য সংগ্রহ করে ফিরে আসার পর আমার নম্বর ফোন করে ফারুক।’
তিনি বলেন,তার ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দেন। আমি এ ঘটনার জেরে প্রচণ্ড রকমের ভীতসন্ত্রস্ত। ইতোমধ্যে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এ প্রসঙ্গে ফারুক চট্টগ্রাম নিউজ ডটকম’ কে বলেন, অভিযান চালিয়ে উপজেলা প্রশাসন আমার নির্মাণ করা দেওয়াল ভেঙে ফেলছে। তাই আমি রাগের মাথায় ইমরানকে গালিগালাজ করে ফেলেছি এ জন্য আমি দুঃখিত।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজান হোসাইন বলেন, ‘আমরা গতকাল অভিযান চালিয়ে তাদের (ফারুক ও হুমায়ুন) সরকারি জায়গায় নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙে দিয়েছি। আজকে আমরা খবর পেয়ে গিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। তথ্য সংগ্রহের জেরে সাংবাদিককে হুমকির বিষয়টি শুনেছি। তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন। ’
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘হুমকির বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইমরানের একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
