কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে এবার সরকার এই চার্জ ছাড়াই তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে।
কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দুটি থেকে আসবে ১০০ মেগাওয়াট করে সৌরবিদ্যুৎ আর একটি থেকে আসবে ২২০ মেগাওয়াটের বায়ু বিদ্যুৎ। সৌরবিদ্যুতের দাম পড়বে প্রতি কিলোওয়াট ১১ টাকার কম আর বায়ু বিদ্যুতে তা সাড়ে ১৩ টাকার মত।
আজ বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য বা ট্যারিফ অনুমোদন করেছে। এই প্রথম বাংলাদেশে বেসরকারি খাত থেকে ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়া বিদ্যুৎ কিনতে যাচ্ছে সরকার।
নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানি সম্প্রসারণের অংশ হিসাবে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের দুই উপজেলার সীমানায় একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কক্সবাজারে একটি হবে সৌর ও একটি বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমানায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গ্রিন প্রগ্রেস রিনিউয়েবল ও আইআরবি অ্যাসোসিয়েটস যৌথভাবে ২০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
আনুমানিক তিন হাজার ৫২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় বিবেচনায় এই প্রকল্প থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ১০ টাকা ৮৭ পয়সায়।
কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কনসোর্টিয়াম হিসাবে কাজ করবে ডিট্রোলিক এসএ ইন্টারন্যাশনাল ও পাওয়ারনেটিক এনার্জি।
প্রায় তিন হাজার ৫৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই কেন্দ্র থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ১০ টাকা ৯২ পয়সা।
২০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পেও ‘নো ইলেক্ট্রিসিটি নো পে’ সূত্র কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ না কিনলে কেন্দ্র ভাড়া দিতে হবে না।
সাঈদ মাহবুব খান জানান, কক্সবাজারের চকোরিয়ায় জেটি নিওএনার্জি কোম্পানিকে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন আগেই দেওয়া হয়েছিল।
এখন সেখান থেকে প্রতি ইউনিট ১৩ টাকা ৪১ পয়সায় আগামী ২০ বছরের জন্য বিদ্যুৎ ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।
