দীর্ঘ ১৪দিন পর হৃদয় ফিরল ঘরে। তবে জীবিত বা সম্পূর্ণ মৃতদেহ না। গহীন পাহাড় থেকে উদ্ধারকৃত খন্ডিত দেহবশেষ হাড় হয়ে ফিরল সে। এম্বুলেন্সে থাকা প্লাস্টিকে মোড়ানো রিদয়ের দেহের খন্ডবিশেষ দেখে তার বাবা বলতে থাকেন “আর পুয়ারে আর হুলত দে, আই ঘরত লই জাইয়ুম”। এরপর বিলাপ আর কাঁদতে কাঁদতে খোলে করে নিজের ছেলের দেহের খন্ড বিশেষ ঘরে ডুকান তিনি। ঘরে ডুকানোর পর সৃষ্টি হয় আরেক করুন দৃশ্যের। রিদয়ের মা বাবা ছেলের দেহের খন্ড বিশেষ জড়িয়ে ধরে কান্না আর বিলাপ করতে থাকেন। ঘরে থাকা স্বজনদের কান্নায় ভাড়ী হয় চারপাশ। কিছুপর দেহাবশেষ নিয়ে যাওয়া হয় পারিবারিক কবরস্থানে। সেখানে দাদির কবরের পাশে তাকে কবরস্থ করা হয়।
বলছিলাম চট্টগ্রামের রাউজানে অপহরণের ১৩দিন পর গহীন পাহাড় থেকে খন্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়া সিবলি সাদেক হৃদয়ের কথা।
আজ মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে তার খন্ডিত দেহাবশেষ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়িতে।
গতকাল সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রাঙ্গামাটি কাউখালি উপজেলার গহীনে বালুটিলা নামক পাহাড় থেকে তার খন্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দেহাবশেষ নিয়ে ফেরার পথে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মারা যায় ঘটনার প্রধান আসামি উমং চিং মারমা (২৬)।
তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট রাতে চট্টগ্রামের রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চপাড়ার মুরগি খামার থেকে অপহরণ করা হয় হৃদয়কে।
সে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের রওশান আলী কেরানীর বাড়ির পিকআপ ড্রাইবার মুহাম্মদ শফির ছেলে।
অপহরণের ২ দিন পর অপহরণকারীরা মায়ের মুঠোফোনে ফোন করে কথা বলিয়ে দেয় হৃদয়ের সাথে। তখন ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। সাড়া না পেয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকরীরা।
পরদিন ১লা সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা দুই লাখ টাকা নিয়ে বান্দরবান জেলা সদরের পূর্বনির্ধারিত জায়গায় গিয়ে দুজন লোকের হাতে টাকা তুলে দেন। তাঁদের বলা হয় হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে চলে যাবে।
আজ ১৪ দিন পর হৃদয় ফিরল ঘরে তবে খন্ডিত দেহাবশেষ নিয়ে।
