রাঙ্গুনিয়ায় আরব আমিরাত প্রকল্পের ভেতরে নদী খনন প্রকল্পের বালুর স্তুপে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাওয়া (১৩) নামের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে গেলেও অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করেন। তার শরীরের প্রায় ৬০ ভাগ পুড়ে যায় বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের গুনগুনিয়া বেতাগী ৯ নম্বর ওয়ার্ড প্রজেক্ট গেইট বালুর টাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মাওয়া উপজেলার মরিয়ম নগর ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের মেয়ে ও মরিয়ম নগর নুরুল উলুম মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
মাওয়ার মামা নজু মেম্বার বলেন, বৃহস্পতিবার মাওয়া তার পরিবারের সঙ্গে আমার ভাইয়ের মেজবানের দাওয়াতে আসে। বিকেলের দিকে খেলতে আরব আমিরাত প্রকল্পের বালুর স্তুপের দিকে গেলে সেখানে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে যায়। পরে আশেপাশের লোকজন তাকে দেখে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।
মাওয়াকে মুমুর্ষ অবস্থায় প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে গেলে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করেন। তার শরীরের প্রায় ৬০ ভাগ পুড়ে যায়।বর্তমানে সে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের ৭ম তলার ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন আছে।
আরব আমিরাত প্রকল্পের ভেতরে বালুর স্তুপের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটির বিষয়ে এলাকাবাসীর বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও ব্যবস্থা নেয়নি কেউই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ নজু মেম্বারের।
এর আগে গণমাধ্যমে “নদী খননের বালুতে চাপা পড়েছে আমিরাতের প্রকল্প” শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দিয়েছিল বলে দাবী চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষের। নতুন এ সৃষ্ট দূর্ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দূর্ঘটনার বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গণি ওসমানী অবগত থাকলেও এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক জুয়েল দাশ।
তিনি বলেন, দূর্ঘটনার বিষয়টি জানি না। এ বিষয়টি নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলবো।
এছাড়াও এর আগে আরব আমিরাত প্রকল্পের ভেতরে বালুর স্তুপের নিচের এ ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে বলেও নেয়নি কেন জানতে চাইলে জুয়েল দাশ বলেন, তখন সরেজমিনে গিয়ে কাউকে পাইনি তবে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দিয়েছিলাম।
