ঘরবর্তি মেহমানের কারনে নিজের কাঠ ছেড়ে দিয়ে আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রায়া আকতারকে নিয়ে নিজের ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়েছিলেন গৃহবধু শামসুন নাহার (২৬)।
রাত ১টার দিকে ঘুম ভেঙে হঠাৎ বুঝতে পারেন তার পায়ে কিছু একটা কামড় দিয়েচে। আলো জ্বালাতেই দেখেন পায়ের কাছে ফণা তুলে বসে আছে একটি সাপ। দ্রুত মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বের হন তিনি। আশপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
আজ রোববার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শামসুন নাহার।
গতকাল শনিবার রাত ১টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের অ্যাংলোপালি উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে।
শামসুন নাহার উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাঁচখাইন এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী কাতারপ্রবাসী মুহাম্মদ জুয়েল।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সেলিনা আকতার বলেন, শনিবার রাত ১টার দিকে ওই নারীর চিৎকার শুনে তাঁদের ঘুম ভাঙে। লোকজন চলে আসায় সাপটি পালিয়ে গেছে। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায় আমরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রোকন উদ্দিন জানান, অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হলেও ওই নারীকে বাঁচানো যায়নি। আজ রোববার ভোরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁকে কোন প্রজাতির সাপ কামড়েছে, তা জানা যায়নি।
