রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেছেন, এ প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে শেষ ১০০ বছরের নদীর গতিপথ, জোয়ার-ভাটা ও জীববৈচিত্রের কোন প্রভাব পড়বে কিনা তার সামগ্রিক বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরিকল্পনাটি করা হয়েছে। তবুও প্রকল্পের বাইরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণ যাতে কোন কিছুতেই ভোগান্তিতে না পড়ে সেটি চিন্তা করে ৪০ ভাগ কাজ বেশি করা হয়েছে। যেখানেই ব্রিজ ও কালভার্ট প্রয়োজন হয়েছে সেখানেই বাড়ানো হয়েছে। আর এবারের বন্যার বিষয়টি চিন্তা করে জনগণ যাতে ভবিষ্যতে পানিতে ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে জন্য রেলপথ উঁচু ও প্রয়োজন অনুযায়ী কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।
আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহানী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বয়ে যাওয়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং তিনি এ এসব কথা বলেন।
রেল সচিব হুমায়ুন কবীর বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শন করে দেখা গেছে-৫০০ মিটার জায়গার কিছু অংশে ক্ষতি হয়েছে। মনে করেছিলাম এ্যামব্যাংকমেন্ট ভেসে গেছে। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। রেল লাইনের নিচে গর্ত হয়ে যাওয়ায় কিছু পানি জমে আছে। পানি ওভার ফ্লু হয়েছে। কোথাও লিকেজ হয়েছে, কোথাও পাথর অল্প রয়েছে। কিন্তু ফাটল দেখা যায়নি এবং পাথরও পানিতে চলে যায়নি। ¯িøপার কোথাও বাঁকা হয়নি। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণে দুর থেকে দেখলে মনে হবে, আঁকা-বাঁকা রেলপথ। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখলে তা মনে হবে না। কয়েকটি স্থানে পাথর সরে দেবে গেছে। সেখানে রেললাইন একটু ঝুলে আছে। এটা এমন না যে, লোহা বাঁকা হয়ে গেছে। আপাতত সবার কাছে এটিই মনে হয়েছে। টেকনিক্যাল পার্সন আরও ভাল বলতে পারবে আসলে কি হয়েছে। যদি টেকনিক্যাল পার্সনরা মনে করেন লোহা বেঁকে গিয়েছে, তাহলে এটি মেরামত করে দেওয়া হবে। আপাতত আমার কাছে এরকম মনে হয়নি। আমাদের পর্যাপ্ত সাপোর্ট রয়েছে। এটা ঠিক করে দেয়াতো কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার। এজন্য টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। এ অবস্থা সৃষ্টির কী কারণ ও কিভাবে তা থেকে উত্তোরণ হওয়া যায় তা নিয়ে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রেললাইনের ক্ষতির বিষয়টি পত্রিকা ও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে দেখে বিষয়টি কি হয়েছে তা আমি সশরীরে দেখতে এসেছি।

কাজে কোন গাফিলতি হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে রেল সচিব বলেন, দোহাজারী হয়ে কক্সবাজার রেললাইন যাবে, সেটি দীর্ঘদিনের ও সারা দেশের মানুষের স্বপ্ন। এখানে একটি পাথরের খোয়াসহ ব্যবহারের আগে বুয়েটের প্রকৌশলী দিয়ে প্রত্যেকটি জিনিস পরীক্ষা করে কাজে লাগানো হয়েছে। যেখানে যেটা প্রয়োজন তা দেয়া হয়েছে। যদি গাফিলতি থাকতো তাহলে তা বন্যার আগেই দৃশ্যমান হত।
তিনি আরও বলেন, এখনও কিন্তু ওয়েল্ডিং ও টেম্পিং হয়নি। আশা করি সকল বাধা ডিঙ্গিয়ে বাকী কাজগুলো আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের দিকে রেল টেস্ট ট্রায়াল রানে যাবে।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন কাজের দায়িত্বে থাকা তমা কনস্ট্রাকশন লি. এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) মো. আতাউর রহমান ভুঁইয়া বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে ১০দিন পর্যন্ত কাজ করা যায়নি। অক্টোবরে রেললাইন চালু হবে এ টার্গেট থেকে আমরা পিছিয়ে যায়নি। এ জন্য পুরোদমে কাজ চলছে। এখানে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ কামরুল আহসান, দোহাজারী- কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মফিজুর রহমান ও সহকারি প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম।
