বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলার সীমান্তে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএ) পুতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
বুধবার (১৭ মে) রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে স্লোপি পাড়া কুকিচিং ন্যাশনাল ফ্রন্ট ( কেএনএফ) আস্তানায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হলেন, জুয়েল ত্রিপুরা (২৭), ও আহত ব্যক্তি হলেন আব্রাহাম ত্রিপুরা (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে থানচি ও রুমা দুই উপজেলার সীমান্তে রেমাক্রি- প্রাংসা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে স্লোপি পাড়ায় ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই রুমা উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসি রাম পাড়ার বাসিন্দা। পাহাড়ে স্লোপি পাড়ায় কুকি চিন আস্তানায় কয়েকদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চলে আসছে।
আরও পড়ুন: রুমায় কেএনএর সন্ত্রাসীদের হামলায় ২ সেনাসদস্য নিহত
নিহত জুয়েল ত্রিপুরার পিতা গুলেহা ত্রিপুরা বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় নিরাপত্তা বাহিনীরদের রশদ ও বিভিন্ন মালামাল বহনের জন্য আমরা ২১ জন স্লোপি পাড়া যাই। এদিন রাতে ফাইনং পাড়া অবস্থান করি। আজ বুধবার দুপুরে ফাইনং পাড়া থেকে স্লোপি পাড়া উদেশ্যে যাওয়ার সময় কেএনএফের পুতে রাখা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বা পুতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আমার ছেলে জুয়েল ও আব্রাহাম আহত হয়। উদ্ধার করে তাদের থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ছেলেকে মৃত ঘোষণা করে। অপরজনকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ আল নোমান ও স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. ওয়াহিদুজামান মুরাদ বলেন, বিস্ফোরণের আঘাতে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তাই আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন আহমেদ জানান, ঘটনাস্থল রুমা থানার আওতায় পড়লেও যোগাযোগ ব্যবস্থায় থানচি উপজেলার কাছাকাছি হওয়ায় আহত ও নিহতকে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, লাশের ময়নাতদন্ত্র শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
