কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে পানের বরজের কাজ করতে গিয়ে পাহাড়ি স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তদের হাতে স্কুল শিক্ষার্থীসহ চাচা-ভাতিজা অপহরণের শিকার হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে ৩ জন ফিরে আসলেও অপহরণকারীদের হামলায় রক্তাক্ত দুই কৃষক সহোদরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ৩০ এপ্রিল (রবিবার) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরাস্থ মাঠ পাড়া পাহাড়ে বাঁচা মিয়ার পুত্র রহিম উদ্দিন (৩০), সরওয়ার আলম (৪৫), সরওয়ার আলমের পুত্র এবং জাহাজপুরা মডেল একাডেমীর দশম শ্রেণীর ছাত্র রিদুওয়ান (১৯), ইউছুপের পুত্র আব্দুল আমিন (৩২) ও আব্দুল্লাহ (৩১) পৃথকভাবে পানের বরজের পান তুলতে এবং কৃষি কাজ দেখা শুনা করতে যায়। হঠাৎ দা-কিরিচ এবং অস্ত্রাদি নিয়ে একদল পাহাড়ি স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্ত দল তাদের ঘেরাও করে মাদারবনিয়া খাল হয়ে গভীর পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে জিরি এলাকা হতে বাঁচা মিয়ার পুত্র সরওয়ার আলম (৪৫) প্রাণ রক্ষার্থে লাফ দিয়ে গভীর খাদে পড়ে কোন প্রকারে পালিয়ে যায়। একই কায়দায় ইউছুপের পুত্র আব্দুল আমিন (৩২) ও আব্দুল্লাহ (৩১) পালানোর চেষ্টা করলে দূবৃর্ত্ত দল তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করলেও কোন প্রকারে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পাহাড়ি দূবৃর্ত্ত দলের কোপে রক্তাক্ত ইউছুপের পুত্র আব্দুল আমিন (৩২) ও আব্দুল্লাহ (৩১) কে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। দূবৃর্ত্ত দলের হাতে অপহৃত বাঁচা মিয়ার পুত্র রহিম উদ্দিন এবং সরওয়ার আলমের পুত্র জাহাজপুরা মডেল একাডেমীর দশম শ্রেণীর ছাত্র রিদুওয়ানের মুক্তির জন্য ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেছে বলে জানা গেছে।
অপহৃত স্কুল ছাত্রের পিতা ও দূবৃর্ত্ত দলের কবল থেকে ফিরে আসা সরওয়ার আলম বলেন, ‘আমি ঝুঁকি নিয়ে কোন প্রকারে বেঁচে আছি। এখন আমার ছেলেকে কিভাবে উদ্ধার করব। তাদের মুক্তির জন্য ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করছে। আমার হাতে একেবারে খরচের টাকা পর্যন্ত নেই। আমার স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধারের জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি’।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের তদন্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, উক্ত এলাকা দিয়ে ২জন অপহরণ এবং দুই সহোদরকে রক্তাক্ত করার খবর পেয়ে পুলিশের বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহৃতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
