নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও থানার বির্তকিত ওসি গোলাম কবিরকে প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ এবং ভূক্তভোগীরা। ঘুষ বানিজ্য, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি, দালাল শ্রেণির লোকজনের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয়হীনতার কারনে এহেন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার (২০ মার্চ) মানবাধিকার লংঘের মত ঘটনার জন্ম দিয়ে দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে ঈদগাঁও থানার ওসি গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া এবং স্থানীয় ও জাতীয় পত্রপত্রিকায় তাঁর বিরুদ্ধে গতকাল ব্যাপক লেখালেখি হয়। ওয়ার্ড মেম্বার নূরুল আলম জানান, গত সোমবার (২০ মার্চ ) সকাল ৯ টার দিকে জালালাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ফরাজীপাড়া (৫নংওয়ার্ড) গ্রামের মৃত নজির আহমদের ছেলে শাহজাহান ও প্রতিবেশী মৃত আবু শামার ছেলে হারুনর রশীদের মধ্যে নলকুপের পানি চলাচলকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে শাহজাহান হারুনর রশীদকে নখ কাটার যন্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
ভূক্তভোগীরা ঘটনাটি ঈদগাঁও থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে অবহিত করলে সঙ্গীয় ফোর্সসহ থানার এসআই গিয়াস উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং অভিযুক্ত শাহজাহান খুঁজতে থাকে। শাহজাহানকে না পেয়ে পুলিশ ক্ষুদ্ধ শাহজাহানের স্ত্রী ফরিদা ইয়ামিন ৬ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু ও ২ বয়সী অপর শিশুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরদিন মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সকাল ১১টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখে। পরদিন মঙ্গলবার (২১ মার্চ) ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল আলমের নের্তৃত্বে এলাকার নের্তৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গরা ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল রাশেদের বাসায় এসে বিষয়টি অবগত করেন। ইউপি চেয়ারম্যান ও ঈদগাঁও উপজেলা আ’লীগ সাধারন সম্পাদক রাশেদ বিষয়টি থানার এস আই গিয়াস উদ্দিন ও ওসিকে অবগত করেন এবংঅভিযুক্ত শাহজাহানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এবং মানবিক কারনে আটক শাহজাহানের স্ত্রী ফরিদা ও দুগ্ধপোষ্যসহ ২ শিশুকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানান। চেয়ারম্যান রাশেদ জানান, এর কিছুক্ষনের মধ্যেই ধুর্ত ওসি ঘটনার শিকার হারুনর রশীদকে ডেকে আনেন এবং এনে শাহজাহান ও তার স্ত্রীকে আসামী হিসেবে উল্লেখ করে মামলাটি নথিভূক্ত করেন এবং ওই মামলায় ফরিদাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কিছুক্ষনের মধ্যে আদালতে সোপর্দ করেন। এঘটনায় গোটা এলাকার মানুষ ফুঁসে উঠে এবং মানবাধিকার কর্মীরা দারুনভাবে ক্ষুদ্ধ হন। অবশ্য পরদিন বুধবার (২২ মার্চ) আদালত ওই মহিলার জামিন করে।
একইদিন ঈদগাঁও (২১ মার্চ) থানার সাদা পোষাকধারী একদল পুলিশ তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে জাবের আহমদ জিসান নামের ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ওসি গোলাম কবির ও ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয় এবং বিচার দাবী করে কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে কিছুক্ষণ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার বহু ফরিয়াদী জানিয়েছেন, টাকা ছাড়া ঈদগাঁও থানায় কোন কাজ হয়না এবং ইতোমধ্যেই বেশ কিছু মোটর সাইকেল আটক করে। পরে টাকার বিনিময়ে ওইসব মোটর সাইকেল পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে ভূক্তভোগীরা জানায়।
ঈদগাঁও ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি তারেক আজিজ জানান, মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে আসা গরু প্রতি ১ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয় থানা পুলিশকে। এসব ঘটনায় ঈদগাঁওর আপামর জনতা অবিলম্বে ওসি গোলাম কবিরের শাস্তির দাবী জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূক্তভোগীরা বলেন, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানায় কর্মরত থাকাকালে ওসি গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও নৌকা প্রতীক মনোনীত প্রার্থী শেখ জাকিরকে চেয়ারম্যান পদে জিতিয়ে দেবার আশ্বাসে ২৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন বলে অভিয়োগ রয়েছে। এ বিষয়ে ভূক্তভোগী জাকির স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছে বলেও তারা জানান। এনিয়ে গত বছরের ৭ জুন ’২২ খ্রি. আজকের সাতক্ষীরা পত্রিকায় সংবাদ প্রচারিত হয়।
এ বিষয়ে জানতে ঈদগাঁও ওসি গোলাম কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভিকটিমের পরিবার এজাহার জমা দিয়েছে, এজাহারের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল ) মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
