সকালে ঘর থেকে বের হয়ে মোটর বাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন কর্মস্থলের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। পথিমধ্যে বাঁধে বিপত্তি।কুয়াশাচ্ছন্ন চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া বুড়ির দোকান এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ি ধাক্কা দিলে মোটর বাইক সহ সাহেদ ছিটকে পড়ে সড়ক পেরিয়ে পাশের জমিনে। গাড়ির ধাক্কায় তার মাথার হেলমেট ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।স্থানীয়রা এগিয়ে এসে সাহেদকে অজ্ঞান অবস্থায় সেখান থেকে উদ্বার করেন। পরিচয় পত্র সূত্রে খবর দেওয়া হয় তার কর্মস্থলের লোকজনকে। তারা সহ মিলে তাকে দ্রুত আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকদের প্রানপণ চেষ্টার পরও এক সেকেন্ডের জন্য তার জ্ঞান ফিরছিলোনা। ডাক্তারের ভাষায় তার মাথা ফাটেনি,রক্ত করণও হয়নি তবে হেলমেটের চাপে তার ব্রেইন ৯৯ভাগ ডেট হয়ে গিয়েছিল। যার কারনে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার অবুঝ দুই শিশু কন্যা এখনো জানেনা তার বাবা দুনিয়াতে আর বেঁচে নেই।
বাবার কি হয়েছিল তা বোঝার কিংবা জানারও বয়স এখনো তাদের হয়নি। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। দুই শিশু কন্যা না কাঁদছে,না হাসছে।
গত ১০ জানুয়ারী সকালে সাহেদ আলম রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউপির ৭নং ওয়াডের এয়াছিনগর ছালেহ আহমদ তালুকদার বাড়ীর নিজ বাসা থেকে এনজিও সংস্থা ইপসার একটি অনুষ্টানে যোগ দিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে ঘটে নির্মম এ সড়ক দূর্ঘটনা। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলায় এনজিও সংস্থা ইফসার এরিয়া ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেদিন অফিসের নির্দেশে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরে ইফসার কর্মসূচীতে যোগ দিতে বাড়ী থেকে মোটর বাইক নিয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন।
সাহেদ দীর্ঘ ৮দিন মৃত্যু সাথে পাঞ্জা লড়ে (১৮ জানুয়ারী)বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৩৫বছর। মরহুম ইদ্রিছ মিয়ার ৫ সন্তানের মধ্য সাহেদ সবার ছোট। সাহেদের স্ত্রী ও দু কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে ছায়দার বয়স মাত্র ৬ বছর, সে জুবলী সরকারী প্রাইমারিতে পড়ে প্রথম শ্রেণীতে,ছানিমন ছোট মেয়ের বয়স মাত্র ৪ বছর।
নিহতের স্কুল বন্ধু ব্যবসায়ী আবদু রশিদ স্বপন বলেন ,সাহেদ অত্যন্ত সহজ-সরল,নম্র-ভদ্র,সদালাপী ছিলেন। সাহেদের চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার আমাদের বন্ধুরা মিলে ৫০ হাজার টাকা আমরা মেডিকেলে দিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তাকে বাঁচানো গেলনা।
