৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে পুলিশের বরখাস্ত হওয়া উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়েছে।
সোমবার ১৬ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মোঃ আসিফুজ্জামানের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য্য থাকলেও সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় আগামী ২৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেন আদালত। মামলায় এ পর্যন্ত ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ জুন ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে পুলিশের বরখাস্ত হওয়া উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজান, মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান এর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে সোহেলিয়া ও মাহবুবুর রহমান পলাতক রয়েছেন।
মামলা পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১ জুলাই মিজানকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
মামলা সুত্রে জানা যায়, সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের সময় দুদক কর্মকর্তা এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার কথা নিজে গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন ডিআইজি মিজান। ৪০ লাখ টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন এই দুদক কর্মকর্তা। ঘুষ লেনদেনে দুদকের করা মামলায় দুদকের বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে আট বছর ও পুলিশের বরখাস্ত ডিআইজি মিজানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম। অন্যদিকে মানি লন্ডারিং আইনের ৪ ধারায় বাছিরকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
