বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এম.পি বলেছেন, জননেতা এম.এ মান্নান অজাতশত্রু শুদ্ধাচারী রাজনীতিক এবং জ্ঞানতাপস। তিনি জ্যোতির্ময় নেতা ও আলোকবর্তিকা।
তিনি জনতার এম.এ মান্নান। চট্টগ্রামের এম.এ মান্নান অবশ্যই একজন জাতীয় নেতা। রাজনীতিকে তিনি জনকল্যাণমুখী ধারায় প্রবহমান রেখেছিলেন বলেই তিনি সকলের অন্তর ছুঁয়েছেন। আমি শৈশব থেকেই এম.এ মান্নানকে জেনেছি।
চট্টগ্রামের কিংবদন্তি রাজনীতিক এম.এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, এম.এ হান্নান, এ.বি.এম. মহিউদ্দীন চৌধুরীর কীর্তির কথা সমগ্র দেশবাসী জানে এবং তারা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
তিনি আরো বলেন, শত সংগ্রামের স্মারক এই চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম শুধু রাজনীতির ক্ষেত্রে নয় অর্থনীতি শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও দ্যুতি ছড়ায়। তাই চট্টগ্রামের দিকে সারা দেশ তাকিয়ে রয়।
তিনি আজ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফ এর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মন্ত্রী জননেতা এম.এ মান্নানের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, এম.এ মান্নানের মত রাজনীতিকের সংখ্যা কমে আসছে। রাজনীতি ব্যক্তির চেয়েও বড় এবং দলের আদর্শের প্রতি আনুগত্য ও জনগণের সেবা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠাই একজন রাজনীতিকের ব্রত। কিন্তু আজ রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
রাজনীতি আবর্জনার জায়গা নয়। ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার নির্ভর নয়। আজকে দেখা যায় বিল বোর্ডে ব্যক্তির বন্দনা এবং বিলবোর্ড নির্ভর এই কদর্য রাজনীতি চাই না। তিনি বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, করোনা অতি মহামারিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করে জাতিকে স্বস্তি দিয়েছেন।
এমনকি রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানী সংকট মুদ্রাস্ফীতি নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন।
তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখের সাথী হতে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বোপরি সাধারণ মানুষের নিত্য জীবনধারা যাতে স্বাভাবিক থাকে সেজন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।
তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অভিযাত্রায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় বিএনপি-জামাতই শুধু দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় না, তথাকথিত সুশীল সমাজও দেশের অগ্রযাত্রা অচল করে দিতে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে ইন্ধন যোগাচ্ছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি-জামাত মাঠ দখলের মহড়া দিচ্ছে, এটা অশুভ ইঙ্গিত। আমরা মাঠ দখলের রাজনীতি করি না। মানুষের মন দখল করবো। সর্বোপরি কোন অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা সংঘাত নয় সহনশীলতার চর্চা করি।
তার মানে এই নয় যে, অযৌক্তিক দাবি দাওয়ার নামে নাশকতা ও অপরাজনীতিকে জনগণ অনুমোদন দেবে। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে। তিনি নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের স্বার্থে আমাদেরকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
আমাদের রাজনীতি হবে মাঠ গরম করা নয়, জাতি ও সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখা এবং মানুষের মন জয় করা। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, প্রয়াত জননেতা এম.এ. মান্নান অর্থ-বিত্তের জন্য রাজনীতি করেন নি।
বরং রাজনীতির জন্য অর্থবিত্ত বিসর্জন দিয়েছেন। খুব সাদামাটা জীবন যাপন করে দলের আদর্শিক চেতনায় সাংগঠনিক ভিত্তিকে মজবুত করে গেছেন। তিনি আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষক এবং সৃজনশীল রাজনৈতিক কর্মী সৃষ্টির কারিগর।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, জননেতা এম.এ. মান্নান আপাদমস্তক শুদ্ধাচারী রাজনীতিক। আমৃত্যু তিনি আদর্শকে ধারণ করেছেন।
তিনি অত্যন্ত বিনয়ী এবং নম্র, ভদ্র ছিলেন। তাঁকে কখনো রাগান্বিত হতে দেখিনি। কেউ যদি তাকে কষ্ট দিতেন কিন্তুতাঁর অভিব্যক্তিতে এর প্রকাশ ছিল না। তাঁর মধ্যে কখনো আমিত্ব ছিল না। একটি সর্বজনীন বোধ ও মানসিকতায় তিনি নিমগ্ন থাকতেন।
তিনি আরো বলেন, এম.এ মান্নানকে আমরা বাহ্যিকভাবে অতি সাধারণ দেখলেও তিনি গরীব ঘরের ছেলে ছিলেন না, পৈত্রিক সূত্রে চট্টগ্রাম শহরে তাদের অনেক অনেক ভূ-সম্পত্তি ছিল। কিন্তু এসব তিনি ভোগ করেননি। রাজনীতির জন্যই বিলিয়ে দিয়েছিলেন।
এ কারণে এম.এ মান্নান শুধু একজন ব্যক্তি নন একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হচ্ছি। এই নির্বাচনের সঙ্গে শুধু দলের নয় সমগ্র দেশ ও জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন রয়েছে। এই বাস্তবতা ও সত্যটি অনুধাবন করে আমাদেরকে জনগণের কাছে গিয়ে সাংগঠনিক ভিত্তিকে মজবুত করতে হবে এবং আমাদের ঐক্যের শক্তিকে সুসঙ্গত করতে হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, একজন পরিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক বলতে যাকে বুঝায় তিনি হলেন এম.এ. মান্নান। কোনো অহংকার ও দর্প তাকে স্পর্শ করে নি। একজন কর্মী হিসেবে তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, উত্তর জেলার সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী এ.টি.এম. পেয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, আইন সম্পাদক ও জেলা পি.পি. এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, মরহুম এম.এ মান্নানের সন্তান আব্দুল লতিফ টিপু, মোঃ জাবেদ, সিটি কর্পোরেশন এর ভারপ্রাপ্ত মেয়র আফরোজা কালাম, থানা আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব ফিরোজ আহমেদ, হাজী সুলতান আহমেদ চৌধুরী, হাজী সিদ্দিক আলম, আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর চৌধুরী সিএনসি স্পেশাল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সামশুল আলম, আলহাজ্ব মোঃ গিয়াস উদ্দীন, মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, মোঃ ইকবাল হাসান ও মরহুমের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, ২য় সন্তান মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ দিদারুল আলম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, সহ সভাপতি ও রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, আবুল কাশেম চিশস্তী, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, উপদেষ্টা আলহাজ্ব সফর আলী, শেখ মোঃ ইসহাক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, হাসান মাহমুদ শমসের, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, মাহাবুবুল হক মিয়া, জোবাইরা নার্গিস খান, দিদারুল আলম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মানষ রক্ষিত, ডা: ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, শহিদুল আলম, নির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ, সৈয়দ আমিনুল হক, কামরুল হাসান বুলু, মহব্বত আলী খান, অমল মিত্র, বখতেয়ার উদ্দীন খান, রোটারিয়ান মোঃ ইলিয়াছ, ডা: নেছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু, হাজী বেলাল আহমেদ প্রমুখ।
এর আগে সকালে দামপাড়াস্থ কবর প্রাঙ্গনস্থ মসজিদে খতমে কোরআন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং মরহুমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
