পুলিশের কিছু কাজে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, পুলিশকে এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। থানায় গেলে এখনো মানুষ হয়রানির শিকার হয় বলে মন্তব্য করেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
আজ শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের ওপর চরম অত্যাচার-নির্যাতন নেমে এসেছিল।
আমি একজন আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান হিসেবে সেই দুঃসময় নিজ চোখে দেখেছি। আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে, আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক সিদ্ধান্ত আমাদের বাসায় বসে হয়েছে।’
সরকারে না থাকলেও পুলিশের কর্মকর্তারা গোপনে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করতেন ৭৫ পরবর্তী সমইয়ে তেমনটাই বুঝতে পেরেছিলেন জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘তখন আমি একটি বিষয় লক্ষ্য করেছিলাম, পুলিশ বাহিনীর আওয়ামী লীগের প্রতি একটা দুর্বলতা কিন্তু আছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, পুলিশ বাহিনী অবশ্যই তাদের আদেশ-নির্দেশ প্রতিপালন করে।
কিন্তু আমি দেখেছি, সেসময় পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তা গোপনে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর বড় অবদান আছে। আর মুক্তিযুদ্ধে যে দলটি নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই আওয়ামী লীগ ২১ বছরের কঠিন দুঃসময় পার করার ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা পেয়েছে, এটা আমি স্বীকার করছি। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’
ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের আধুনিকায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু অকৃতজ্ঞ নন, তিনি ক্ষমতায় এসেই পুলিশ বাহিনীকে মূল্যায়ন করেছেন। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে পুলিশ ছিল সবচেয়ে অবহেলিত, বঞ্চিত। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেই বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় ক্ষেত্রে পুলিশকে উন্নত সুবিধা দিয়েছেন।
পুলিশকে ব্যাংক দেওয়া হয়েছে, অত্যাধুনিক অস্ত্র দেওয়া হয়েছে, হেলিকপ্টার দেওয়া হয়েছে। বিদেশে গিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছেন। এমনকি আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এখন শান্তিরক্ষী মিশনেও দায়িত্ব পালন করছেন।’
তারপরও সেবাপ্রার্থী মানুষকে হয়রানির চিত্র বদলায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যা চাচ্ছেন, তা-ই পাচ্ছেন। কিন্তু আপনাদের কিছু কিছু কর্মকাণ্ডে আপনাদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। আপনাদের অনেক ভালো কাজ আছে, সেটা নিয়ে আমরা গর্ব করি। কিন্তু থানায় গেলে সাধারণ মানুষ এখনো হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
মানুষকে সেবাটা সঠিকভাবে দিতে হবে। বর্তমান সরকারের আমলে আপনারা নিরাপদ, আপনাদের পরিবার নিরাপদ। তাহলে আপনাদের আর চাওয়া-পাওয়ার কী থাকতে পারে? আপনারা যদি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, নিবেদিত হন, তাহলে মানুষ সঠিক সেবা পাবে। পুলিশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে না।’
সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়ের সভাপতিত্বে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরিন আখতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ, ও এ কে এম সরোয়ার কামাল।
