ইউরোপের অন্তত পাঁচটি দেশের ১০০ এর অধিক মানুষের দেহে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের সংক্রমণ এবং রোগের উপসর্গ দেখা যাওয়ায় এ নিয়ে শুক্রবার জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সর্বপ্রথম বানরের দেহে শনাক্ত হওয়া এ রোগটির প্রাদুর্ভাব সাধারণত পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোতে দেখা গেলেও এবার ইউরোপের যুক্তরাজ্য, স্পেন, পর্তুগাল, জার্মানি এবং ইতালিতে এ রোগের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রেও মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ধারাবাহিকভাবে এ রোগের সংক্রমণ ধরা পড়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মাঙ্কিপক্সই ইউরোপে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব বলে জানিয়েছে জার্মানি। মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হওয়া বেশিরভাগ রোগী আফ্রিকা ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত না হওয়ায় রোগের প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে।
‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসরি গ্রুপ অন ইনফেকশাস হ্যাজার্ডস উইত প্যানডেমিক অ্যান্ড এপিডেমিক পোটেনশিয়াল (এসটিএজি-আইএইচ) জানিয়েছে, বিশ্ববাসীর স্বাস্থ্যের জন্য মাঙ্কিপক্স ভাইরাস হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি কমিটি।
এ বিষযে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছেন মাঙ্কিপক্সের সুনির্দিষ্ট কোনো টিকা না থাকলেও স্মলপক্সের জন্য ব্যবহৃত টিকা ৮৫ শতাংশ কার্যকরীভাবে এ রোগ ঠেকাতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন জনের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাসের জিন বিন্যাস করছেন। দ্রুতই এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাধারণত শরীরে মৃদু জ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মাঙ্কিপক্স একটি বিরল ভাইরাস সংক্রমণজনিত রোগ। তবে অধিকাংশ মানুষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানায় যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস।
সার্স-সিওভি-২ ভাইরাসের মতো এ ভাইরাস ছড়ায় না। তাই এ রোগ কোভিড- ১৯ এর মতো মহামারী হয়ে উঠবে না বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
জার্মানির রবার্ট কখ ইন্সটিটিউটের গবেষক ফাবিয়ান লিনদার্তজ বলেন, মাঙ্কিপক্স দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে রোগীকে খুব ভালভাবেই আলাদা করা সম্ভব এবং এ রোগের কার্যকর ওষুধ এবং টিকাও আছে।
মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের স্মলপক্সের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
১৯৭০ সালের পর থেকে আফ্রিকার ১১ দেশে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের খবর পাওয়া গেলেও ২০১৭ সালের পর নাইজেরিয়ায় সবচেয়ে বেশি এ রোগের প্রকোপ দেখা যায়। ৭ মে প্রথমে নাইজেরিয়া থেকে ইংল্যান্ডে আসা এক ইউরোপীয় নাগরিকের দেহে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়।পরবর্তীতে আফ্রিকার বাইরে ১০০ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত করার কথা জানায় ইউনিভার্সিট অব অক্সফোর্ড একাডেমি।
ইতালির লাজিও অঞ্চলের স্বাস্থ্য কমিশনার আলেসিও ডি’আমাতো জানিয়েছেন, দেশটিতে এ পর্যন্ত তিনজনের দেহে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে। স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার ২৩ জনের দেহে নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই মাদ্রিদ এলাকার এবং বেশিরভাগ সংক্রমণের সঙ্গেই প্রাপ্ত বয়স্কদের একটি বাষ্পীয় স্নানাগারের সম্পর্ক রয়েছে।
এ বিষয়ে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি জানিয়েছে, সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই পুরুষ যারা নিজেদের সমকামী, উভকামী কিংবা কোনা পুরুষের সঙ্গে যৌন সংসর্গের কথা জানিয়েছেন। পর্তুগালে সংক্রমিত ১৪ জনই শনাক্ত হয়েছেন বিভিন্ন যৌন চিকিৎসা কেন্দ্রে। তারাও পুরুষ এবং নিজেদের সমকামী, উভকামী অথবা অপর কোনো পুরুষের সঙ্গে যৌন সংসর্গের কথা জানিয়েছেন।
