কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ডিবি পরিচয়ে সাব্বির নামে এক যুবককে অপহরণের পর মারধর করে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনতাই ও তিন লাখ টাকা মুক্তিপন দাবীর ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার ১০ আগস্ট রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নানকরায় অপহরণের শিকার ও আমানগন্ডা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাব্বিরের পিতা পৌর এলাকার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবুল কাশেম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার উপ-পরিদর্শক তারেক উদ্দিন আকাশ।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কয়েকদিন আগে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে পাশের গ্রামের কয়েকজন বখাটে, মাদকসেবী ও ছিনতাইকারী ছেলের সাথে সাব্বিরের বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে তারা সাব্বিরকে অপহরণ ও হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সাব্বির সোমবার রাত সাড়ে নয়টার পরে মোঃ মেহেদীর সিএনজি গাড়ী যোগে তাঁর নানার বাড়ী বসন্তপুর থেকে নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে খালার বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা করে। কিছুক্ষণ পর রাত আনুমানিক দশটায় বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের উপরে পৌছা মাত্রই অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন কয়েকটি মোটর সাইকেল ও একটি অজ্ঞাতনামা হাইয়েস গাড়ী নিয়ে সিএনজি গাড়ীর গতিরোধ করে। তারা সাব্বিরকে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক অজ্ঞাতনামা হাইয়েস গাড়ীর মধ্যে উঠিয়ে দ্রুত দক্ষিণ দিকে নিয়ে যায়।
এসময় সাব্বির চিৎকার করতে চাইলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয় এবং মুখ চেপে ধরে। এ সময় অপহরণকারীদের হাতে থাকা লোহার হাতুড়ি দ্বারা সাব্বিরকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা, বুক, সিনাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে সাথে থাকা নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। কয়েকজন সাব্বিরের দুই পায়ে ও বাম হাতের মধ্যে ধারালো ব্লেড দ্বারা একাধিক জায়গায় রক্তাক্ত কাটা জখম করে এবং তাঁর সাথে থাকা মোবাইল এর ইমু থেকে পিতা আবুল কাশেমের ইমুতে কল করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। তাদের দাবিকৃত ৩ লাখ টাকা না দিলে সাব্বিরকে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়া হয়।
পরবর্তীতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা সাব্বিরকে রাত একটায় মহাসড়কের ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা এলাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে চলে যায়।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ সাব্বিরকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। বর্তমানে অপহরণকারীদের ভয়ে সাব্বির, তার বাবা আবুল কাশেম ও মা সুমনা বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা চরম আতংক ও ভয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক তারেক উদ্দিন আকাশ বলেন, ভিকটিম সাব্বিরের পিতার দায়েরকৃত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
