শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

চিপ ওয়ার: বৈশ্বিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস

অনলাইন ডেস্ক

একবিংশ শতাব্দীতে ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্সে ক্ষমতার প্রকৃতি মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অতীতে মিলিটারি পাওয়ার, প্রাকৃতিক সম্পদ, জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র গ্লোবাল পাওয়ার-এর প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান যুগে টেকনোলজিক্যাল ক্যাপাবিলিটি রাষ্ট্রের ক্ষমতার অন্যতম প্রধান নির্ধারক হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তি আধুনিক অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), মহাকাশ গবেষণা, সাইবার সিকিউরিটি এবং ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার-এর কেন্দ্রে অবস্থান করছে। ফলে অ্যাডভান্সড চিপের উৎপাদন, সরবরাহ ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে যে বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে, সেটিই বর্তমানে চিপ ওয়ার নামে পরিচিত। চিপ ওয়ার কেবল প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নয়; এটি অর্থনৈতিক, সামরিক, কূটনৈতিক এবং জিওপলিটিক্যাল শক্তির পুনর্বিন্যাসের একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া।

অ্যাডভান্সড সেমিকন্ডাক্টরের ওপর নিয়ন্ত্রণ এখন রাষ্ট্রের টেকনোলজিক্যাল লিডারশিপ, সামরিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং স্ট্র্যাটেজিক ইনফ্লুয়েন্স নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্তে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রযুক্তি আজ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তির নতুন ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অনেক বিশ্লেষক সেমিকন্ডাক্টরকে “The New Oil” হিসেবে অভিহিত করেন। বিংশ শতাব্দীতে যেমন তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ভূরাজনীতির অন্যতম প্রধান নির্ধারক ছিল, তেমনি একবিংশ শতাব্দীতে অ্যাডভান্সড সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক সক্ষমতা নির্ধারণ করছে। কারণ আধুনিক অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সবই অ্যাডভান্সড চিপের ওপর নির্ভরশীল। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন (UAV), মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, স্যাটেলাইট, সুপারকম্পিউটার, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং এআই-সক্ষম অস্ত্রব্যবস্থা সব ক্ষেত্রেই অ্যাডভান্স সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য। ফলে যে রাষ্ট্র চিপের নকশা, ফ্যাব্রিকেশন, গবেষণা এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন-এর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, সে দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিগত ও সামরিক প্রতিযোগিতায় স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভান্টেজ অর্জন করবে।

অন্যদিকে চীন (China) বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকনোলজিক্যাল সেলফ-রিলায়েন্স এবং টেকনোলজিক্যাল সার্বভৌমত্ব অর্জনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তাইওয়ান (Taiwan), দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea), জাপান (Japan), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-উৎপাদক রাষ্ট্র নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত নির্ভরতা হ্রাসে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক নতুন প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে, যেখানে অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং কূটনীতি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত।

এই প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ইকোনমিক স্টেটক্রাফট, এক্সপোর্ট কন্ট্রোলস, টেকনোলজি ডিনায়াল এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। রাষ্ট্রগুলো সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে না গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সীমিত করতে অ্যাডভান্সড চিপ, চিপ উৎপাদন যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (EDA) সফটওয়্যার এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে প্রযুক্তি এখন আর কেবল বাণিজ্যিক সম্পদ নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল ইকোনমি-এর ভাষায় এই প্রবণতাকে টেকনো-ন্যাশনালিজম বলা হয়, যেখানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রভাবের মূল উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সমসাময়িক যুদ্ধ ক্রমশ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, টার্গেট অ্যাকুইজিশন, প্রিসিশন স্ট্রাইক, ড্রোন নিয়ন্ত্রণ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং এআই-অ্যাসিস্টেড ডিসিশন মেকিং সব ক্ষেত্রেই অ্যাডভান্সড সেমিকন্ডাক্টর, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর এবং আধুনিক কম্পিউটিং অবকাঠামো অপরিহার্য। ফলে চিপ প্রযুক্তিতে অগ্রগতি এখন সামরিক আধুনিকীকরণের অন্যতম প্রধান শর্ত। সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এআই-নির্ভর গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। ইসরায়েল টার্গেট অ্যাকুইজিশন, ড্রোন সমন্বয় এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় এআই-এর কার্যকর ব্যবহার প্রদর্শন করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে এআই-সহায়ক ড্রোন, ভূস্থানিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং মানববিহীন যুদ্ধব্যবস্থার সফল ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে রাশিয়া ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, মানববিহীন যুদ্ধব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র নির্দেশনা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে চীন এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, অটোনোমাস ওয়েপনস এবং ইন্টেলিজেন্টাইজড ওয়ারফেয়ার ধারণার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।

ভারতও (India) দেশীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা, সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়ন এবং এআই-ভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি ভারত ও জাপান নৌবাহিনীর জন্য UNICORN (ইউনিফায়েড কমপ্লেক্স রেডিও অ্যান্টেনা) প্রযুক্তির যৌথ গবেষণা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উন্নয়ন এবং সেমিকন্ডাক্টর, এআই ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে উভয় দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে। বর্তমান মূল্যায়নে চীনকে সামরিক এআই ক্ষেত্রে অন্যতম শীর্ষ শক্তি এবং ভারতকে দ্রুত ইমার্জিং সামরিক এআই শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া রেড সি (Red Sea) অঞ্চলে এআই-সমর্থিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, সেন্সর ফিউশন, অটোমেটেড থ্রেট ডিটেকশন এবং রিয়েল-টাইম কমান্ড নেটওয়ার্ক-এর ব্যবহার দেখিয়েছে যে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই সামরিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান নির্ধারক হবে।

বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প একটি অত্যন্ত জটিল গ্লোবাল ভ্যালু চেইন-এর ওপর নির্ভরশীল। গবেষণা, নকশা, লিথোগ্রাফি ইকুইপমেন্ট উৎপাদন, ফ্যাব্রিকেশন, অ্যাসেম্বলি, প্যাকেজিং এবং টেস্টিং প্রতিটি ধাপ বিভিন্ন দেশে সম্পন্ন হয়। ফলে এই আন্তঃনির্ভরতা যেমন উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে, তেমনি ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তাইওয়ানের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের সর্বাধুনিক সেমিকন্ডাক্টরের উল্লেখযোগ্য অংশ তাইওয়ানে উৎপাদিত হওয়ায় দ্বীপটির নিরাপত্তা এখন কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত।

তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে কোনো সামরিক সংঘাত সৃষ্টি হলে অ্যাডভান্সড চিপের বৈশ্বিক সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব ইলেকট্রনিক্স, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর পড়বে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ফ্রেন্ড-শোরিং, রি-শোরিং, নিয়ার-শোরিং এবং সাপ্লাই চেইন ডাইভার্সিফিকেশন-এর মতো কৌশল গ্রহণ করছে, যাতে সাপ্লাই চেইন রেজিলিয়েন্স বৃদ্ধি পায় এবং স্ট্র্যাটেজিক ভালনারেবিলিটি হ্রাস করা যায়।

অতীতে যুদ্ধের প্রধান নির্ধারক ছিল সৈন্যসংখ্যা, অস্ত্রভাণ্ডার এবং ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, এআই, সাইবার ইনফ্রাস্ট্রাকচার, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন এবং অ্যাডভান্স সেমিকন্ডাক্টরের ওপর নিয়ন্ত্রণ সামরিক সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত। ভবিষ্যতের সংঘাতে প্রচলিত সামরিক শক্তির পাশাপাশি টেকনোলজিক্যাল ব্লকেড, সাইবার অ্যাটাক, তথ্য নিয়ন্ত্রণ, সাপ্লাই চেইন ডিসরাপশন এবং গবেষণা কৌশলগত প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হবে। যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি গবেষণাগার, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র, ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কও সংঘাতের অংশ হয়ে উঠবে। ফলে আধুনিক যুদ্ধ ক্রমেই হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার-এর আরও উন্নত, প্রযুক্তিনির্ভর রূপ ধারণ করছে।

সেমিকন্ডাক্টরভিত্তিক কৌশলগত প্রতিযোগিতা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যকার প্রচলিত বিভাজনকে অনেকাংশে বিলুপ্ত করেছে। বর্তমানে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর, এআই, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সক্ষমতার অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন দেশ ডোমেস্টিক ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি, গবেষণায় বিনিয়োগ, সাপ্লাই চেইন রেজিলিয়েন্স শক্তিশালীকরণ এবং টেকনোলজিক্যাল সেলফ-রিলায়েন্স অর্জনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এর ফলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি, ইকোনমিক স্টেটক্রাফট এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি পলিসি ক্রমশ একটি সমন্বিত স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ফ্রেমওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মধ্যম শক্তির ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব রাষ্ট্র রেয়ার আর্থ মিনারেলস, ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং অথবা বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত দক্ষতার অধিকারী, তারা বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নতুন ধরনের স্ট্র্যাটেজিক ইন্টারডিপেনডেন্স সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে ছোট রাষ্ট্রও বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

চিপ ওয়ারের প্রেক্ষাপটে তাইওয়ান (Taiwan) বিশ্বের সর্বাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র; দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea) মেমোরি চিপ উৎপাদনে বিশ্বনেতা; নেদারল্যান্ডস (Netherlands) উন্নত লিথোগ্রাফি প্রযুক্তিতে অগ্রগণ্য; জাপান (Japan) উন্নত সেমিকন্ডাক্টর উপকরণ ও উৎপাদন যন্ত্রাংশ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ; সিঙ্গাপুর (Singapore), মালয়েশিয়া (Malaysia), ভিয়েতনাম (Vietnam) এবং ভারত (India) উৎপাদন, অ্যাসেম্বলি, প্যাকেজিং, টেস্টিং ও নতুন বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত গুরুত্ব অর্জন করছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া (Australia), কানাডা (Canada), চিলি (Chile) এবং ইন্দোনেশিয়া (Indonesia) লিথিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট ও তামাসহ বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল মিনারেলসের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সাপ্লাই চেইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে এসব রাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Antonio Gramsci-এর চিন্তাধারা থেকে বিকশিত নিও-গ্রামশিয়ান থিওরি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ক্ষমতা কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং জ্ঞান উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, গ্লোবাল প্রোডাকশন স্ট্রাকচার, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও হেজিমনি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ কেবল শিল্পোন্নয়নের প্রতীক নয়; বরং বৈশ্বিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি এবং গ্লোবাল প্রোডাকশন নেটওয়ার্ক-এর ওপর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিফলন। যে রাষ্ট্র এসব ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বজায় রাখতে সক্ষম হবে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নিয়ম, প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার কাঠামো গঠনে তার প্রভাবও অধিক হবে। তাই নিও-গ্রামশিয়ান বিশ্লেষণে চিপ ওয়ার বৈশ্বিক হেজিমনি পুনর্গঠনের একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংগ্রাম।

চিপ ওয়ার, জিওপলিটিক্যাল প্রতিযোগিতা এবং আধুনিক ওয়ারফেয়ার আজ ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্সের অন্যতম কেন্দ্রীয় বাস্তবতা। ফলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মূলত প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হবে। তাই চিপ ওয়ারকে কেবল একটি বাণিজ্যিক বা প্রযুক্তিগত বিরোধ হিসেবে নয়; বরং একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।

প্রদীপ আইচ: লেখক। 

চট্টগ্রাম নিউজ / এসডি/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রামনিউজ.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, মতামত, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি । আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@chattogramnews.com ঠিকানায়।

সর্বশেষ

পতেঙ্গায় মোটরসাইকেল-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

নগরের পতেঙ্গা থানাধীন লিংক রোড এলাকায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের...

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান 

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর...

নদী দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নদীদূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।...

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা পূরণ রাকিবের, তুললেন সেলফি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা পূরণ হলো তাবিউল...

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্বপ্নপূরণ হলো ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রীর, মিলল হারমোনিয়াম উপহার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে স্বপ্নপূরণ হলো...

অনুর্ধ্ব-১৩ ফুটবল টুর্নামেন্টের ২৫ একাডেমিকে ফুটবল দিলেন সাইফুল আলম খান

চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন (সিডিএফএ) ব্যবস্থাপনায় ও চট্টগ্রাম সিটি...

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন দূতের বৈঠক: সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে...

কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষি ও অন্যান্য খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক...

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি ফারুক, সা. সম্পাদক জিতু

কুমিল্লা প্রেসক্লাব কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লা প্রেসক্লাব ভবনের...

মাতামুহুরীর সুস্বাদু দইয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র, বাড়ছে ক্রেতাদের আগ্রহ

দুধজাত জনপ্রিয় খাবার দইয়ের জন্য ধীরে ধীরে পরিচিতি পাচ্ছে কক্সবাজারের মাতামুহুরি উপজেলা। সুস্বাদু স্বাদ, খাঁটি দুধের ব্যবহার এবং ঐতিহ্যবাহী প্রস্তুত প্রণালীর কারণে স্থানীয়ভাবে তৈরি...