কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় গরু চোরের উৎপাত দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে করে হতদরিদ্র খামারি ও সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবার জীবনের শেষ সম্বল হিসেবে কষ্ট করে দুই-একটি গরু লালন-পালন করলেও চোরের হাতে তা খোয়াতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, বেকার যুবকদের কেউ কেউ কর্মসংস্থানের শেষ আশ্রয় হিসেবে গরুর খামার গড়ে তুললেও চুরির ভয়ে তারা এখন হতাশ। অনেকেই রাতে গোয়ালঘরেই অবস্থান করে গরু পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবুও চোরচক্র কৌশলে শেষ সম্বলটুকু নিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি জানলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
একাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সম্প্রতি কোনাখালী ইউনিয়নের মোস্তাফিজের তিনটি গরু এবং ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের আমির উদ্দিনের একটি গরু চুরি হয়। এছাড়া শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেচ্ছাপাড়া এলাকার হাফেজ মইন উদ্দিনের একটি গৃহপালিত গাভী চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত পাঁচটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।
কোনাখালী ইউনিয়নের এক ভুক্তভোগী গরুর মালিক বলেন, “কিছুদিন আগে আমার তিনটি গৃহপালিত গরু চুরি হয়ে গেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় চার লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এটাই ছিল আমার সব সম্বল। এখন আমার আর কিছুই নেই। আমি গরু চোরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে আর কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের গরু চুরির শিকার আমির উদ্দিন বলেন, “গোয়ালঘর থেকে আমার লক্ষাধিক টাকার গরুটি চুরি করে নিয়ে গেছে। এতে আমি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম, যেন ন্যায়বিচার পাই।”
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “আমরা নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার করেছি। গরু চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গরুচোর শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করে যাচ্ছে।”
আর এইচ/
