ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার দাবি জানিয়ে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টার পর নেতাকর্মীরা মোড়ে জড়ো হন। ধীরে ধীরে লোক সমাগম বেড়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টার পরও তারা অবস্থান নিয়ে বিচার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। নেতাকর্মীদের স্লোগান ছিল— ‘নারায়ে তাকবির’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘যদি চাও মুক্তি, ছাড়ো ভারত প্রীতি’, ‘সাইদ থেকে হাদি, আজাদী আজাদী’, ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।
কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক রাফসান রাকিব বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। কেন্দ্র থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
এসময় তৌসিফ ইমরোজ, এসএম শহিদ, আল মামুনসহ মঞ্চের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, “আজাদির লড়াইয়ে শহীদ হাদি একটি অনুপ্রেরণার নাম। বাংলাদেশকে আর কারও করদ রাজ্যে পরিণত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। শহীদ হাদি যুগ যুগ ধরে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের পথ দেখিয়ে যাবেন।”
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হত্যার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতারই প্রকাশ। তারা বলেন, “হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।”
এর আগে শুক্রবার হাদির হত্যার বিচার দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে মিছিলও করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মিছিল বের করা হয়। একইদিন শাহবাগ মোড়ে মঞ্চের নেতাকর্মীরা অবরোধ শুরু করেন এবং শীতের মধ্যে কাঁথা-কম্বল জড়িয়ে অবস্থান নেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি মারা যান। এই ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও হাদির মৃত্যুর পর তা নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
আর এইচ/
