নির্বাচন বানচালের যেকোনো তৎপরতাকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় মাথাল মিছিল–পূর্ব সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান ছিল কোনো ধর্মীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নয়, বরং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। “জুলাই–আগস্টে হাজারো তরুণ রক্ত দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য অভ্যুত্থান করেছিলেন,” বলেন সাকি।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার কূটকৌশল, হামলা-মামলা, অত্যাচার ও হত্যার মাধ্যমে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করেছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
রাষ্ট্রের ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন,“সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ জনপ্রতিনিধিদের হাততোলা এমপিতে পরিণত করেছে—এটি বাতিল করতে হবে।”একই সঙ্গে একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান, নির্বাচন কমিশন–দুদক–পিএসসি নিয়োগে সাংবিধানিক কমিশন গঠন, সংসদকে দ্বিকক্ষ করা, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা এবং রাষ্ট্রপতি–প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, কেবল রাজনৈতিক অধিকার পেলেই মানুষের সমস্যা দূর হবে না। “দেশের অর্থনীতি লুটের অর্থনীতিতে পরিণত হলে বৈষম্য বাড়বে, টাকা পাচার হবে, কিন্তু মানুষের মুক্তি আসবে না।”খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন আসবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মিছিল-পূর্ব সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী মিজানুর রহিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৪ আসনের জাহিদুল আলম, চট্টগ্রাম-৫ আসনের কলি আক্তার, চট্টগ্রাম-৬ আসনের নাসির উদ্দীন তালুকদার, চট্টগ্রাম-৯ আসনের হাসান মারুফ রুমী, চট্টগ্রাম-১০ আসনের অপূর্ব নাথ, চট্টগ্রাম-১১ আসনের সৈয়দ সালাউদ্দিন শহীদ শিমুল প্রমুখ। সমাবেশ শেষে মিছিলটি নগরের কাজীর দেউড়ি থেকে শুরু হয়ে আন্দরকিল্লা মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
