চট্টগ্রামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি–টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ হলেও আজ (২ ডিসেম্বর) জ্বলে উঠলেন তানজিদ হাসান তামিম। ফিল্ডিংয়ে পাঁচ ক্যাচ নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর ব্যাট হাতেও খেললেন ঝলমলে ইনিংস। তার অপরাজিত ৫৫ রানে ভর করে লিটন দাসের দল ৮ উইকেটের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় সিরিজ ২–১।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে এক বল বাকি থাকতে আয়ারল্যান্ড অলআউট হয় মাত্র ১১৭ রানে। দুরন্ত শুরু করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় আইরিশরা। প্রথম ৫ ওভারে ৫০ রান তুললেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি দলটি। পল স্টার্লিং করেন ৩৮ রান, ডকরেল ১৯ এবং টেক্টর ১৭ রান করেন। বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন নেন তিনটি করে উইকেট। শেষ ওভারে সাইফউদ্দিনের হাতে বল তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কাজে আসে; তিনিই বেন হোয়াইটকে ফিরিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুটা বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ৪৬ রানের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস (৭) ও সাইফ হাসান (১৯)। তবে তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন দেখেশুনে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ৩৫ বলে ১১তম টি–টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন তানজিদ। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে চারটি চার ও তিন ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ইমন অপরাজিত থাকেন ২৬ বলে ৩৩ রানে।
এর আগে মাঠে অনন্য কৃতিত্ব দেখান তানজিদ। গ্যারেথ ডেলানি, মার্ক অ্যাডায়ার, ম্যাথু হামফ্রিস, জর্জ ডকরেল ও বেন হোয়াইট—এই পাঁচ ব্যাটারের ক্যাচ ধরে ইতিহাস গড়েন তিনি। টেস্ট খেলুড়ে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি–টোয়েন্টি ম্যাচে পাঁচ ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ড এখন তার। পুরো টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে এর আগে এই কীর্তি ছিল মালদ্বীপের ওয়েদাগে মালিন্দা ও সুইডেনের সেদিক সাহাকের দখলে।
তানজিদের ব্যাট–ফিল্ডিংয়ের অনবদ্য নৈপুণ্যেই শেষ পর্যন্ত সিরিজের শেষ ম্যাচে চট্টগ্রামবাসী পেল আরেকটি দারুণ জয় উদযাপনের সুযোগ।
আর এইচ /
