সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য নিরসন ও ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে অবশেষে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। দাবি আদায়ে বারবার অনুরোধ করেও প্রতিকার না পাওয়ায় তাঁরা এই কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা জানান, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাঁরা পর্দার আড়ালে থেকে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, রক্তের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা–নিরীক্ষা থেকে শুরু করে ওষুধ বিতরণ, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ—এমন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। করোনা মহামারির সময় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু আজও তাঁদের পেশা নানা সমস্যায় জর্জরিত।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার বিষয়টি সমাধান করেনি। যখন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, নার্সিং ডিপ্লোমাধারী, কৃষি ডিপ্লোমাধারীরা ১০ম গ্রেড পেয়েছেন, সেখানে চার বছর মেয়াদি বিজ্ঞানভিত্তিক ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা এখনো ১১তম গ্রেডে বৈষম্যের শিকার।
তাঁরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে সরকার আশ্বাস দিলেও কোনোটি বাস্তবে রূপ নেয়নি। বর্তমানে তাঁদের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জিও জারির অপেক্ষায় রয়েছে, কিন্তু নানা টালবাহানায় দেরি হচ্ছে।
দাবি আদায়ে “মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ”-এর আহ্বানে চট্টগ্রাম বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৫ থেকে ২৯ নভেম্বর স্মারকলিপি প্রদান ও লিফলেট বিতরণ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবুও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তাঁরা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন—বিএমটিএ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি টেকনোলজিস্ট গৌতম বাশার,টেকনোলজিস্ট সাদিকুর রহমান চৌধুরী,টেকনোলজিস্ট আলী আজম,এমটিএফ চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি টেকনোলজিস্ট তহিদুল ইসলাম এবং ফার্মাসিস্ট হেলাল উদ্দিন।
নেতারা বলেন, আন্দোলন চলাকালীন স্বাস্থ্যসেবা আংশিকভাবে চালু থাকবে, তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ ও দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনকারীরা দেশের জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।
আর এইচ/
