চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এসএসসি ও এইচএসসি কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত। এজন্য বিএনপির প্রণীত বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ থাকবে এই দুই খাতে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,“আমাদের বাজেটের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হবে শিক্ষার জন্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য। স্বৈরাচার বিদায়ের পর দেশের তরুণদের মধ্যে নতুন আশা ও স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের মেধাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে।”

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,“আগামী দিনের শিক্ষা কারিকুলামে জাপানিজ, চাইনিজ, ইংলিশ ও আরবি ভাষা অপরিহার্য হবে। যে যত বেশি জানবে, তত বেশি এগিয়ে যাবে। স্মার্টফোনেই এখন বিশ্বের সব লাইব্রেরি হাতের নাগালে।”
তিনি আরও বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, মিউজিক, নাটক ও থিয়েটারের মতো এক্সট্রা কারিকুলামেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন—“অনেক মানুষ ঠিকমতো দুই বেলা খেতে পারে না। শরীর ভালো না থাকলে মেধা বিকাশ সম্ভব নয়। তাই আমরা সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে নিশ্চিত করব। প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।”
এসময় তিনি জানান, দেশে পর্যাপ্ত ডাক্তার থাকলেও কর্মসংস্থান কম। নতুন স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চাকরির সুযোগও বাড়ানো হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন—“১৮ মাসে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান BNP’র বড় ঘোষণা। সারা দেশে স্কিল সেন্টার হবে, গ্রাম থেকে ছেলে-মেয়েরা কল সেন্টার–ডাটা সেন্টারে কাজ করতে পারবে।”
ই-কমার্সের প্রসার নিয়ে তিনি বলেন—“নকশিকাঁথা, আচার বা অন্য পণ্য অনলাইনে অ্যামাজন–আলিবাবায় বিক্রি করা যাবে। এজন্য গ্রামে গ্রামে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “বিএনপি মেগা প্রকল্পে যাবে না। মানুষের আত্মকর্মসংস্থান, বিদেশে চাকরি এবং বাস্তব কর্মসংস্থানই হবে আমাদের অগ্রাধিকার। নতুন প্রজন্ম লেখাপড়া করেও চাকরি পাচ্ছে না—এটিই প্রথম সমাধান করতে চাই।”
এআই ও ডিজিটাল দক্ষতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,“বিশ্বে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়ছে। আমাদের তরুণদের এই দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করা জরুরি।”
অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক ড. মওদুদ হোসাইন আলমগীর পাভেল।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের কোনো রাজনীতি নেই। তারেক রহমানের একটাই প্রত্যাশা—তোমরা শক্তিশালী প্রজন্ম হয়ে দেশকে এগিয়ে নেবে।”
আলোচক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন,“ভালো ফল প্রথম ধাপ। সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণই প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ গড়ে।”
ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন,“তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফায় বাধ্যতামূলক এক্সট্রা কারিকুলাম অত্যন্ত সময়োপযোগী।”
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন—“মেধাবী সেই, যার মধ্যে দেশপ্রেম আছে। দেশপ্রেম ছাড়া মেধা কখনো জাতির কাজে আসে না।”
অনুষ্ঠানে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আবু সুফিয়ানসহ মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আর এইচ/
