আসনের বিনিময়ে কিংবা ক্ষমতার সমীকরণে কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমন স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করছি। একটি আসনও না পেলেও এনসিপি তার আদর্শ, নীতি ও লক্ষ্যে অটল থাকবে।”
রোববার (২৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এনসিপি নিয়ে “মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ” ছড়ানো হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো জোটে যাচ্ছি না। ক্ষমতার জন্য, আসনের জন্য কারও সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না। আর যদি কোনো আলোচনায় যাই—সেটা দেশবাসীর সামনে আমরা খোলামেলাভাবে জানিয়ে দেব। আমাদের কাছে গোপন করার কিছু নেই।”
বিএনপি ও জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “জুলাই সনদের দর-কষাকষিতে তারা এখন পরস্পরের মুখোমুখি। সাজানো নির্বাচন, ভাগ-বাঁটোয়ারার নির্বাচন করার একটি চক্রান্ত চলছে। এ ধরনের নির্বাচন হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের যে নতুন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা ব্যর্থ হবে। এনসিপি কোনো বন্দোবস্তের নির্বাচনে সায় দেবে না।”
আসন্ন নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলে উদ্বেগ জানান তিনি। প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে সরকারসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।
এই প্রক্রিয়া নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের স্বপ্ন, দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই করব। স্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রাথমিক বাছাই হবে। এরপর রাজনৈতিক পর্ষদ চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলেই ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করব।”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, আতিক মুজাহিদ, আবদুল্লাহ আল আমিন, মো. আতাউল্লাহসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আর এইচ/
