চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা সিকদার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার ২২ বস্তা নথি উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল সম্পদ ও টাকা পাচারের গুরুত্বপূর্ণ আলামত ওই বাড়িতে গোপনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া আরামিট গ্রুপের দুই এজিএম আব্দুল আজিজ ও উৎপল পালের জবানবন্দির ভিত্তিতেই এ অভিযান চালানো হয়। উৎপল পাল দীর্ঘদিন ধরে জাবেদের বিদেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন থেকে দুবাই হয়ে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদকের দাবি, পাচারের মূল পরিকল্পনাকারীও তিনিই।
অন্যদিকে আব্দুল আজিজ আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের এজিএম হিসেবে জাবেদের সম্পদ কেনা-বেচা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মামলায় বলা হয়, জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাদের নামে পাঁচটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খোলেন। এর মধ্যে একটির নামে ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ‘টাইম লোন’ সুবিধায় ২৫ কোটি টাকা তোলা হয়, যা পরে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ঘুরিয়ে বিদেশে পাচার করা হয়। গ্রেফতার আজিজের নামে খোলা ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামের অ্যাকাউন্টেও ওই অর্থের অংশ পাওয়া গেছে।
গত ২৪ জুলাই দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। এতে সাবেক মন্ত্রী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্য এবং আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জনকে আসামি করা হয়। দুদক বলছে, ২০১৯–২০ সালে ভূমিমন্ত্রী থাকাকালে জালিয়াতির মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়।
উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪–১৮ মেয়াদে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯–২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তিনি আর মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের প্রাক্কালে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে লন্ডনে চলে যান বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। বর্তমানে তার ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে দুদক।
আর এইচ/
