মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইসরায়েল আর কাতারে হামলা চালাবে না। গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থানরত হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালায়।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাতারকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অত্যন্ত ভালো মিত্র’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “অনেকেই জানেন না, কাতার আমাদের কতটা ভালো বন্ধু। হ্যাঁ, তিনি (নেতানিয়াহু) কাতারে আর হামলা করবেন না। তবে হয়তো তাদের (হামাস নেতাদের) পিছু নেবেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু উপসাগরীয় এ রাষ্ট্রে হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে অন্য পদক্ষেপ নিতে পারেন।
এদিকে, সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার আগে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা অস্বীকার করে বলেন, “না, তারা জানায়নি। আমি এ হামলার খবর ঠিক আপনাদের মতো করেই জেনেছি।”
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে উড়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রশাসনকে বিষয়টি জানায়। ফলে ট্রাম্পের কাছে আগেভাগে আপত্তি জানানোর সুযোগ ছিল না।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের এ হামলার পর সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দোহায় আরব ও ইসলামি দেশগুলোর জরুরি সম্মেলনে প্রায় ৬০ দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠকে নেতারা সতর্ক করে বলেন, কাতারে ইসরায়েলি হামলা গোটা অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। একই সঙ্গে তারা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কিউএনএ প্রকাশিত সম্মেলনের চূড়ান্ত বিবৃতিতে দোহায় ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানানো হয় ও কাতারের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের আগ্রাসন এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে নষ্ট করছে।
নেতারা আরও বলেন, ইসরায়েলের পরিকল্পনা ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। নইলে এ ধরনের প্রচেষ্টা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
