ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকে আরও ১২০টি হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত।
এসব হিসাবে ৪৪ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৪৭০ টাকা রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ এ তথ্য দিয়েছেন।
সংস্থার আবেদনে বলা হয়েছে, জাবেদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘অর্থ পাচারের’ অভিযোগ অনুসন্ধানে মশিউর রহমানকে প্রধান করে দুর্নীতি দমন কমিশন, সিআইডি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৯ জন সদস্যের সমন্বয়ে একটি যৌথ অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের বরাতে দুদক বলেছে, আদালতের আদেশে জাবেদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৩৯টি ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
এর বাইরে তার যেসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করেছে আর্থিক খাতের গোয়েন্দা বিভাগ হিসেবে পরিচিত বিএফআইইউ, সেগুলোর তথ্য পাওয়ার কথা তুলে ধরে সংস্থার দুদক বলেছে, এসব হিসাব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। এসব হিসাব ও ব্যক্তিদের সাথে জাবেদ এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক ‘সত্যতা’ পাওয়া গেছে।
আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে দুদক।
২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল ২০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে তার ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের বিরুদ্ধে একটি একটি মামলা হয়।
জাবেদ ও তার স্ত্রীর নামে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি সম্পত্তিসহ অন্যান্য দেশে স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত।
এ ছাড়া গত ৫ মার্চ তাদের নামে থাকা ৩৯টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেন আদালত। এসব হিসাবে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি জমা আছে। একই সঙ্গে তাদের নামে থাকা ১০২ কোটি টাকার শেয়ার ও ৯৫৭ বিঘা জমি জব্দের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত জাবেদ ও রুকমিলার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করে।
সে বছর ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আগে জাবেদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।
এর জবাবে কয়েক মাস পর আওয়ামী লীগের এ নেতা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, তার বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু পাকিস্তান আমল থেকেই বিদেশে ব্যবসা করেন। তিনি সেই ব্যবসার উত্তরাধিকারী। যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সময়ও তিনি ব্যবসা করেছেন। যুক্তরাজ্যে তার আয়কর নথিও আছে।
সে বছর ৩১ অক্টোবর সিআইডির তরফে জানানো হয়, বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে জাবেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি।
সিআইডি বলেছে, “জাবেদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।”
চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি প্রথম মেয়াদে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং পরের মেয়াদে এক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
