কক্সকবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে মাহিয়া নামের ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ের মো. সোলেমান (৩২) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোহাম্মদ ওসমান গণির আদালত ওই শিশুকন্যাকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গুমের ঘটনায় আসামি ধর্ষক মোহাম্মদ সোলেমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এ রায় ঘোষণা করেছেন।
জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ৬ বছরের এক শিশুকন্যাকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কেক এবং চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে বাসায় নিয়ে যায় মোহাম্মদ সোলেমান নামের এক যুবক। তারপর এই শিশুকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করে গুম করা হয় মরদেহ। মরদেহ গুম করে পরিবারের কাছে ৫ লক্ষ মুক্তিপণ দাবি করা হয়।ঘটনাটি ঘটে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর। পরের দিন শিশুর পরিবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে পুলিশ তদন্তে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়। পরে শিশুর বাবা অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।মুক্তিপণের জন্য করা মোবাইল ফোন কলের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১০ ডিসেম্বর বিকেলে সোলেমান ও তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মীর মোশাররফ হোসেন টিটু এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আদালত বলেছে, “এ ধরনের নৃশংস ঘটনার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ডই হতে পারে।”
এই আইনজীবী জানিয়েছেন, শিশু আইন ২০০০ এর ৭ ধারায় আসামিকে যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার জরিমানা, ৮ ধারায় যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার জরিমানা, প্যানেল কোডের ২০১ ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোপরি শিশু আইনের ৯ এর ২ ধারায় তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সবগুলো সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আর এইচ/
