চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুনতী রোসাইঙ্গাঘোনা আউলিয়া জামে মসজিদের টাকা নিয়ে সুদের ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিল ও কোষাধ্যক্ষ হাফেজ বশিরের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসির মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়,সাবেক কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিত গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে মোস্তফিজুর রহমানকে সভাপতি,মসজিদের মুয়াজ্জিন ও সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিলকে সাধারন সম্পাদক এবং হাফেজ বশিরকে কোষাধ্যক্ষ করে ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি অনুমোদন দেন তৎকালীন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইনামুল হাসান।
কমিটির মেয়াদ ১বছর পেরুতেই জন্ম দিয়েছে নানা বির্তক,উঠেছে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ।কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিল দীর্ঘ একযুগের অধিক সময় দু-মেয়াদে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে থাকায় তার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অভিযোগ।মসজিদের চাঁদা ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখার কথা থাকলে ও তা সঠিক ভাবে মানা হয়নি। ব্যাংকে জমাকৃত টাকার ব্যাপারে ও কোন সঠিক তথ্য দিতে পারেননি তিনি।এমনকি ব্যাংক একাউন্ট কোন ব্যাংকে সেটির ও কোন তথ্য তিনি জানেননা।
সম্প্রতি কোষাধ্যক্ষ ও সাধারন সম্পাদক মিলে মসজিদের টাকা সুদের ব্যবসায় বিনিয়োগ করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।চলছে নানা গুন্জন।শুধু তাই নয় কমিটির পদত্যাগ ও চান অনেকেই।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় বিগত কিছুদিন আগে সমাজ পরিচালনা কমিটির সর্দার ফৌজুল কবির ফজুকে কমিটির অন্যকাউকে না জানিয়ে ১লাখ ৫০হাজার টাকা দুইমাস মেয়াদে ২০হাজার টাকা সুদে বিনিয়োগ করেন কমিটির সাধারন সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ। বিষয়টি জানাজানি হলে তারা দুজন কমিটির অন্যসদস্য ও সমাজের লোকদের নিকট ক্ষমা চেয়ে টাকা পরিশোধের জন্য ১সপ্তাহ সময় নেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,ইসালে সওয়াবের জন্য উত্তোলিত টাকা হতে টাকা হতে সুদের ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত ১লক্ষ ৫০হাজার টাকার কাগজে কলমে কোন অস্হিত্ব নেই।শুধু সাধারন সম্পাদক কোষাধ্যক্ষ ও ফৌজুল কবিরের মাঝে মৌখিক গোপন চুক্তিতে এটি বিনিয়োগ করা হয়েছে।কমিটি কিংবা সমাজের কেউ বিষয়টি জানেননা।
শুধু তাই নয় মসজিদের বাগানের গতবছরের মৌসুমী ফল আমকাঠাল ও ফৌজুল কবির ফজুকে নিলামে দিয়ে নিলামকৃত টাকা এখনো মসজিদ ফান্ডে জমা দেননি বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইল মসজিদের সাধারন সম্পাদক টাকা বিনিয়োগের কথা অস্বীকার করে হাওলাদ দিয়েছেন বলে দাবি করেন।মসজিদের টাকা ব্যাংকে না রেখে একক সিদ্ধান্তে দেয়া যায় কিনা সেটির কোন সদুত্তর দিতে পারেননী, আম,কাঠাল নিলামের টাকার ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজী হননি।এ ব্যাপারে সবকিছু সভাপতি জানেন বলে তিনি মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।
জানতে চাইলে ফৌজুল কবির ফজু বলেন,টাকাটা আমি হাওলাদ নিয়েছি।সেটি সময় করে দিয়ে দিবো।
কমিটির কোষাধ্যক্ষ হাফেজ বশিরের সাথে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ও তা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রোসাইঙ্গাঘোনা আউলিয়া মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,ফজলুকে টাকা দেয়ার বিষয়টি আমি জানিনা তবে উভয়ে স্বীকার করেছেন,আমি বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষকে শাসিয়েছি।আগামী রবিবারের মধ্যে সবটাকা মসজিদ ফান্ডে জমা করার নির্দেশ ও দিয়েছি,তবে সুদে বিনিয়োগের বিষয়টি তিনি জানেননা।এ বিষয়ে তিনি তদন্ত করছেন বলে জানান।
মসজিদ ফান্ডের এতগুলো টাকা ব্যাংক একাউন্টে জমা না রেখে কমিটির সদস্যদের হাতে কিভাবে আসলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাধারন সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষকে দায়ী করেন।
আর এইচ/
